তথ্য ছিল নব্য জেএমবি’র এক শীর্ষ জঙ্গি আইয়ুব বাচ্চু নাটোরে একটি আস্তানায় অবস্থান করছে। তাকে ধরতেই কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সদস্যরা সম্ভাব্য স্থানগুলোতে তল্লাশির প্রস্তুতি নিয়ে নাটোরে রওনা দেন। কিন্তু নাটোরে পৌঁছার আগেই আবার খবর আসে— কুষ্টিয়ার একটি আস্তানায় থাকতে পারে আইয়ুব বাচ্চু। পরে সেই আস্তানায় অভিযান চালাতে গিয়ে সন্ধান পান তিন দুর্ধর্ষ নারী জঙ্গির।
এদের মধ্যে আইয়ুব বাচ্চুর স্ত্রীও রয়েছে। এছাড়াও নব্য জেএমবি’র বর্তমান সেকেন্ড ইন কমান্ড আর্চারের স্ত্রী সুমাইয়া ও স্থানীয় পলাতক জঙ্গি আরমানের স্ত্রী তুলি। তাদের তিন জনকেই পুলিশ আটক করতে সক্ষম হয়েছে।
সিটিটিসি এই গ্রেফতার অভিযানের নাম দিয়েছে ‘টেপিড পাঞ্চ’। এর অর্থ— ‘দ্রুতগামী মুষ্ট্যাঘাত’। অভিযানের নামকরণ প্রসঙ্গে সিটিসিটির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আবদুল মান্নান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “রাত ৩টার পর অপারেশন চালাতে গিয়ে নারী জঙ্গিদের বাঁধার কবলে পড়েছিলাম। তারা বোমা বিস্ফোরণের চেষ্টা করছিল। কিন্তু দ্রুততার সঙ্গে তাদের ক্যাপচারে নিয়ে নেওয়ায় তারা আর বোমার বিস্ফোরণ ঘটাতে পারেনি। অনেকটা কপালের জোরেই বেঁচে গেছি। এজন্যই এই অপারেশনের নাম দেওয়া হয়েছে ‘টেপিড পাঞ্চ’। এসময় তাদের হেফাজত থেকে পাঁচ মাস বয়সী ও সাড়ে ছয় বছর বয়সী দুই শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। আটক করা হয়েছে তিন নারীকে।”
ওই আস্তানায় সুইসাইডাল ভেস্ট ও প্রচুর বিস্ফোরকের সন্ধান পাওয়া গেছে বলে জানান আবদুল মান্নান। তারপর সবাই নিরাপদ অবস্থানে থেকে আস্তানা ঘেরাও করে রাখেন।
শনিবার (১ জুলাই) বিকাল থেকে সেই বিস্ফোরকগুলো নিষ্ক্রিয় করার কাজ করছে বোম্ব ডিজপোজাল ইউনিট।
সিটিটিসির দায়িত্বশীল আরেক কর্মকর্তা জানান, তাদের কাছে তথ্য ছিল নব্য জেএমবির নেতা আইয়ুব বাচ্চু নাটোর জেলায় অবস্থান করছে। অভিযান পরিচালনাকারী টিম সেই গন্তব্যে যাওয়ার পথেই কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার একটি আস্তানার তথ্য পান। তাদের কাছে খবর আসে, কুষ্টিয়ার ভেড়ামারাতেই আইয়ুব বাচ্চু অবস্থান করছে। এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। কিন্তু সেখানে আইয়ুব বাচ্চুকে খুঁজে পায়নি সিটিটিসির টিম। সেখানে তাকে খুঁজে না পাওয়া গেলেও একই আস্তানায় তিন জঙ্গির তিন স্ত্রী ও দুই শিশুকে খুঁজে পাওয়া গেছে। আইয়ুব বাচ্চুর স্ত্রী তিথীর সঙ্গে ছিল তাদের পাঁচ মাসের কন্যা সন্তান। একইভাবে পলাতক আরমানের স্ত্রীর সঙ্গে ছিল সাড়ে ছয় বছরের একটি শিশু।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতার হওয়া সুমাইয়া নব্য জেএমবির সেকেন্ড ইন কমান্ড জঙ্গি আর্চারের স্ত্রী। আর তুলি পলাতক স্থানীয় জঙ্গি আরমানের স্ত্রী। এই আরমানের মাধ্যমেই নব্য জেএমবির পলাতক সদস্যরা সেখানে আস্তানা গড়ে তুলতে পেরেছিল। আরমানই স্থানীয়ভাবে এই জঙ্গি সদস্যদের নানাভাবে পৃষ্টপোষকতা দিয়েছে বলে সিটিটিসির কাছে তথ্য রয়েছে।
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার জঙ্গি আস্তানা প্রসঙ্গে সিটিটিসি প্রধান ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের টিম একজনকে ধরতে গিয়ে তিন নারী জঙ্গিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। এটা অনেকটা সৌভাগ্যক্রমে হয়েছে।
মনিরুল ইসলাম আরও বলেন, ‘যারা পালিয়ে গেছে তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
/জেইউ/এসএমএ/








