আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনও ধরনের চাপ আসবে না, বলে আশা প্রকাশ করেছেন নির্বাচন কমিশনার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরী। বুধবার দুপুরে রাজধানীর নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি একথা বলেন।
নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আশা করি নির্বাচনে কোনও ধরণের চাপ আসবে না। আর চাপ এলেও যতটুকু আমাদের প্রয়োগ করার ক্ষেত্র আছে সেটাই করা হবে। এখন পর্যন্ত কোনও চাপ আমরা পাইনি। নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে সরকারের যে দায়িত্ব, এখন পর্যন্ত আমরা যতটুকু বুঝতে পারছি সেটা আমরা পাব।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের কাজটা খুবই টেকনিক্যাল বিষয়। আইনি কাঠামোর মধ্যেই আমাদের যেতে হয়। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের উদ্দেশ্য হল আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে তাদের কি বক্তব্য। উনাদের কাছ থেকে আমরা শুনবো, জানবো। সেটার প্রেক্ষিতে আমরা কি করতে পারি সেটা চিন্তা করবো।’
কমিশনার বলেন, ‘আমরা যদি আমাদের কাজটা সুষ্ঠুভাবে করতে পারি তাহলে আমার বিশ্বাস ভোটাররা আস্থা ফিরে পাবেন। আমার দৃঢ় বিশ্বাস তাদের আস্থা থাকবে।’ আসন্ন নির্বাচনে সবাই অংশ নেবে বলেও তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন বলে সাংবাদিকদের জানান।
ভোটার তালিকা হালনাগাদ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘২৫ জুলাই ময়মনসিংহ থেকে ভোটার তালিকার হালনাগাদের কাজ শুরু হবে। বিগত ভোটার তালিকা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন করেছেন। সুতরাং আমরা একটা নির্ভুল ভোটার তালিকা আগামী নির্বাচনের আগে দিতে চাচ্ছি। কোনও দলীয় কার্যালয়ে নয়, বাড়ি বাড়ি গিয়েই ভোটারদের তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। এজন্য পারিশ্রমিক বাড়িয়ে দিয়েছি, দলীয় কার্যালয়ে ভোটার করা হলে সেটি হবে দণ্ডনীয় অপরাধ।’
রোহিঙ্গাদের ভোটার হওয়া ঠেকাতে ও নারী ভোটারদের সংখ্যা বাড়াতে কি ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন, এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কেন্দ্র থেকে শুরু করে জেলা, উপজেলা এবং বিভাগসহ সব জায়গায় আমাদের কমিটি করে দেওয়া আছে। বিশেষ অঞ্চলগুলোর জন্যও বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের বিষয়ে খুব কেয়ারফুল, যাতে তারা কোনওভাবেই ভোটার তালিকায় অর্ন্তভূক্ত হতে না পারে। কারণ ভোটার হলেই তারা জাতীয় পরিচয়পত্র পাবে। সেই ভোটারের সুবাদে তারা আবার পাসপোর্ট পাবে। বিষয়টা অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিধায় বিশেষ অঞ্চলগুলোতে কমিটি করে দেওয়া হয়েছে।’
নারীদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নারীদের ভোটার হওয়ার জন্য প্রচারণা বাড়াচ্ছি। এজন্য মসজিদ-মন্দিরে প্রচারণা চালানো হবে। তাদের স্বামীরাও যাতে উৎসাহ দেয় সেই ব্যবস্থাও করা হবে। কারণ কেউ ভোটার না হলে জাতীয় পরিচয়পত্র পাবেন না। আর জাতীয় পরিচয়পত্র না পেলে এ সম্পর্কিত সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হবেন।’
/ইএইচএস/এমও/








