পরিবেশ দূষণ ও জনসংখ্যার চাপে রাজধানী ভাগাড়ে পরিণত হওয়ার আগেই বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নিয়ে ঢাকাকে বাঁচাতে পরামর্শ দিয়েছেন বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ।
বৃহস্পতিবার (১৩ জুলাই) জাতীয় সংসদে দশম সংসদের ষষ্ঠদশ অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে এ পরামর্শ দেন জাতীয় পার্টির এই নেতা। এসময় রাজধানীর জলাবদ্ধতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ভেজাল ও মাদকের প্রভাব, পরিবহন সমস্যা, নদী দূষণসহ বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন তিনি।
রওশন এরশাদ জানান, ঢাকায় প্রতিদিন ৯৬০ জন লোক আসছে। বন্যা-ভাঙনে গৃহহীন, চাকরি বা নতুন কর্মসংস্থানসহ নানা কারণে মানুষ আসছে রাজধানীতে।
বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ‘ঢাকায় মানুষ আসছে স্রোতের মতো। অবস্থা এমন যে, আর জায়গা নেই। এভাবে ঢাকার জনসংখ্যা বাড়ছে, এত লোক ঢাকায়, বাসে লোক উঠতে পারে না।’
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে রওশন বলেন, ‘ঢাকাকে বাঁচান। ঢাকাকে বাঁচাতে চাইলে এখনই ব্যবস্থা নিন, না হলে, পরিবেশ দূষণে ভাগাড়ে পরিণত হবে। নদী বাঁচান, ঢাকা বাঁচান। দূষণ ও ভেজাল রোধ কররেই ডিজিটাল বাংলাদেশের ভিশন বাস্তবায়ন করতে হবে।’
রওশন এরশাদ বলেন, ‘ঢাকা যখন তিলোত্তমা, তখন কলকাতা নোংরা ছিল। আর এখন কলকাতা তিলোত্তমা।’
ঢাকাকে বাঁচাতে ও জনসংখ্যার চাপ কমাতে কিছু পরামর্শও তুলে ধরেন বিরোধী দলীয় নেতা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শিল্প কারখানা বাড়ান, তাহলে ঢাকা থেকে লোক ফিরে যাবে। আট ডিভিশনে আটটি হাইকোর্টের বেঞ্চ করেন। তাতে ঢাকায় লোক কমে যাবে।’
বিরোধী দলীয় নেতার পরামর্শ গুরুত্ব সহকারে দেখে ঢাকাকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানান রওশন।
বিরোধী দলীয় নেতা আরও বলেন, ‘বিভাগে বিভাগে এখন শিক্ষাবোর্ড দিয়েছেন, হাইকোর্টের বেঞ্চ দিতেও অসুবিধা নেই। তা না হলে দেশকে বাঁচানো যাবে না। এখন ব্যবস্থা নিলে আপনি চিরস্মরণীয় হয়ে যাবেন।’
রাজধানীর চিকনগুনিয়ার প্রকোপের প্রসঙ্গ টেনে রওশন এরশাদ জানান, এখন হাজার হাজার লোক আক্রান্ত হচ্ছে।
সিটি করপোরেশনের চিকনগুনিয়া রোধে মানুষকে সচেতন করার পরামর্শ দেন রওশন।
প্লট চাইলেন আবারও
রওশন এরশাদ বলেন, ‘সাংসদদের যারা প্লট পাননি তাদের একটি করে প্লট দিলে ভালো হয়। ঢাকায় তো মাথা গোঁজার ঠাঁই দরকার। পূর্বাচলে জায়গা অনেক। প্রতি এমপিকে যদি পাঁচ কাঠা করে দেন ভালো।
বাজেট ভালো হওয়ায় সমালোচনা
রওশন এরশাদ বলেন, ‘ভালো বাজেট না দিলে এতো আলোচনা, সমালোচনা হতো না। জনগণের দাবি পূরণ করে দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তা করা হয়েছে। এটা এ বাজেটের ভালো দিক।’
রওশন জানান, রাজস্ব আদায়ে কোনও ঘাটতি হবে না। মোবাইল কোম্পানির মাধ্যমে রাজস্ব ঘাটতিটা পূরণ হবে।’
/ইএইচএ/এসএমএ/








