বন্যার কারণে সিরাজগঞ্জ জেলার ৫ উপজেলায় ১৭২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আংশিক ও সম্পূর্ণ প্লাবিত হয়েছে। ফলে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম। বন্যায় রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় যাতায়াত করতে সমস্যা হচ্ছে। ফলে স্কুলেও স্বাভাবিকভাবেই শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম। একই কারণ দেখিয়ে শিক্ষকরাও স্কুলে ঠিকমতো যাচ্ছেন না বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানায়, জেলার সদর,কাজিপুর,চৌহালী ও শাহজাদপুরে যমুনার প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের স্কুলগুলোয় শিক্ষকরা বেশি ফাঁকি দিচ্ছেন। সারাবছরই জেলা বা উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে মনিটরিং করা হলেও বন্যা উপদ্রুত এলাকায় যাতায়াত সমস্যার কারণে ঊর্ধ্বতনদের দুর্বল তদারকি হচ্ছে। ফলে বাড়ছে শিক্ষকদের ফাঁকি দেওবার প্রবণতাও।
বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পরও ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলগুলোয় বিশেষ নজরদারি বা বিকল্পভাবে অতিরিক্ত পাঠদান নিশ্চিত করা সম্ভব না হলে শিক্ষার্থীরা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবে না বলে মনে করছেন অভিভাবকরা।
১০ জুলাই সকাল ১০টায় কাজিপুর উপজেলার বন্যা উপদ্রুত মাইজবাড়ি ইউনিয়নের বন্যা প্লাবিত বিলচতল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেভাবে শিক্ষকদের উপস্থিতি চোখে পড়েনি। বিদ্যালয়টির পুরনো টিনের ভবন এবং নতুন একতলা পাকা ভবনসহ দুটি অংশ। বন্যায় টিনের ভবনটি পানিতে তলিয়ে গেছে। শিক্ষার্থীদের ২০/২৫ জন সকল সাড়ে ৯টার আগেই স্কুলে এসেছে। তবে ৬ জন শিক্ষকের মধ্যে শুধু জাকির হোসেন নামের এক সহকারী শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।
ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম,সহকারী শিক্ষক আব্দুল মজিদ, আতিকুল হক,হাসনা খাতুন ও শাহনাজ পারভীনসহ বাকি ৫ জন সকাল সাড়ে ১০টায়ও স্কুলে আসেননি।
সাড়ে ১০টার পর স্কুলে আসেন প্রধান শিক্ষক। তিনি বলেন, ‘উপজেলা শিক্ষা অফিসার বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি জানতে সশরীরে ডেকেছিলেন। তাই আসতে দেরি হলো।’
তবে কাজিপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মইন উদ্দিনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়,তিনি ওই প্রধান শিক্ষককে ডাকেননি।
শিক্ষকদের ফাঁকির বিষয়ে তিনি বলেন, বন্যায় যাতায়াতের বিড়ম্বনার কারণে হয়তো অনেকেই ফাঁকি দিতে পারেন। তিনি সবাইকে সতর্ক করবেন।
সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুস সালেক,চৌহালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর ফিরোজ কবির এবং শাহজাদপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফজলুর রহমানও একই ধরনের মন্তব্য করেন।
সিরাজগঞ্জ জেলা শিক্ষা অফিসার সিদ্দীক ইউসুফ রেজা বৃহস্পতিবার (১২ জুলাই) সন্ধ্যায় বলেন,জেলার ৫টি উপজেলায় ১৩৯টি বিদ্যালয়ের মাঠে এবং ২৭টির ভবনে পানি উঠেছে। কিছু কিছু স্থানে পাঠদান ব্যহত হলেও নিজ উদ্যোগে উঁচু রাস্তাঘাট ও বাঁধের ওপর বা বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির বাসার অস্থায়ীভাবে পাঠদান চালু রাখতে ওইসব এলাকার শিক্ষকদের বলা হয়েছে। এরই মধ্যে কাজিপুর উপজেলায় ফুলজোর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় যমুনা গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। কাজিপুরে ৫টি বিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
শিক্ষকদের ঠিকমতো আসার বিষয়ে তিনি বলেন,তার দফতর থেকে মোবাইলে কল করে,এমনকি স্থানীয়ভাবে খোঁজখবর নিয়ে শিক্ষকদের সবসময়ই তারা সতর্ক করছেন। তবে,কেউ ফাঁকি দিয়ে ধরা পড়লে তাকে শাস্তি পেতে হবে।
বন্যা পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলগুলোতে বিশেষ নজরদারি বা বিকল্পভাবে অতিরিক্ত ক্লাস বা পাঠদন করার বিষয়ে চিন্তাভাবনা করা হবে,যাতে করে শিক্ষার্থীরা তাদের ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারে।
১১ জুলাই সাংবাদিকদের সঙ্গে মত-বিনিময়কালে জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দীকা বলেন,বন্যার মধ্যে প্রতিকূল পরিবেশে শিশু শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যেতে আবার ঝুঁকির মধ্যে না পড়ে। সে বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে।
/এমএইচ/এসটি/








