ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন না হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে যে ২০ হাজার কোটি টাকা কম রাজস্ব আদায়ের কথা উঠেছে, তার মধ্যে ১৫ হাজার কোটি টাকা আদায়ের পরিকল্পনা দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। রবিবার অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এনবিআর জানিয়েছে, তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলেও ৫ হাজার কোটি টাকার মতো ঘাটতি থাকবে।
ভ্যাট থেকে ৯১ হাজার কোটি টাকা আসবে ধরে চলতি অর্থ বছরের জন্য ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকার বিশাল বাজেট দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সংসদে ব্যাপক বিরোধিতার মুখে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে ভ্যাট আইন কার্যকর করা ২ বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। ফলে ভ্যাট থেকে রাজস্ব ২০ হাজার কোটি কম আসবে।
সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এনবিআরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন স্থগিতের ফলে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ভ্যাট খাতের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে রাজস্ব বাজেটে গৃহীত পদক্ষেপের মাধ্যমে সিগারেট ও বিড়ি খাত হতে ৫ হাজার কোটি টাকা, আবগারি শুল্ক (ব্যাংক হিসাব ও বিমান টিকিট) হতে ৫০০ কোটি টাকা এবং ফাস্টফুডের ওপর ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করার কারণে ১০০ কোটি টাকাসহ সর্বমোট ৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আহরণ সম্ভব হবে।
এছাড়া রাজস্ব আদায় মনিটরিং জোরদারসহ এডিআর ব্যবস্থা কার্যকরণের মাধ্যমে বকেয়া রাজস্ব আহরণ ও কর প্রতিপালন বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমের স্বাভাবিক প্রবৃদ্ধির কারণে আরও ৯ হাজার ৩৮০ কোটি অতিরিক্ত রাজস্ব আহরণ প্রাক্কলন করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এনবিআর বলছে, এ হিসাবে রাজস্ব ঘাটতির পরিমান দাঁড়াবে ৫ হাজার ২০ কোটি টাকা। এই ঘাটতি পূরণের জন্য এনবিআরের অধীনে বিডিভন্ন ভ্যাট কমিশনারেটের মাধ্যমে বৃহৎ মামলাগুলোর নিষ্পত্তি এবং নিরঙ্কুশ বকেয়া আদায়ের লক্ষ্যে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর বাইরে এনবিআর একইসঙ্গে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের কাছে পাওনা ২ হাজার কোটি টাকা এবং পেট্রোবাংলার কাছে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা পাওনার বিষয়ে অর্থ বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য শওকত চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, এনবিআর তাদের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। কমিটি বলেছে, পরিকল্পনা মাফিক এগিয়ে ঘাটতি পূরণ করতে হবে। একই সঙ্গে ভ্যাটের আওতা বৃদ্ধির এবং বকেয়া আদায়ের মাধ্যমে ঘাটতি পূরণ করার সুপারিশ করা হয়।
এদিকে সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে জানানো হয় যে, এবি ব্যাংকের অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ স্থানান্তরের অনিয়মের দায়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে যেকোনও ঋণ মঞ্জুরির ক্ষেত্রে ঋণ প্রস্তাব পর্যালোচনা, পর্যাপ্ত জামানত সংরক্ষণ ও ঋণ বিতরণ পরবর্তী মনিটরিংয়ে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বনের জন্য ব্যাংকটিকে পরামর্শ দেওয়া হয়।
এবি ব্যাংকের অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের মাধ্যমে বিদেশে স্থানান্তরিত অর্থ উদ্ধারে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে তদন্ত করে দ্রুত কমিটিকে জানানোর সুপারিশ করা হয়।
এছাড়া সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অর্থ গচ্ছিতের বিষয়ে পত্র পত্রিকায় যে ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, তা নিরসনের উদ্দেশ্যে প্রকৃত তথ্য গণমাধ্যমে তুলে ধরার পরামর্শ দেওয়া হয় বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
কমিটির সভাপতি মো. আব্দুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য মো. আব্দুল ওয়াদুদ, নাজমুল হাসান, ফরহাদ হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী, শওকত চৌধুরী ও আখতার জাহান অংশ নেন।
/ইএইচএস/ এমএনএইচ/








