বাজেট বাড়ানো হলে সিটি করপোরেশনের উন্নয়নের সক্ষমতা বাড়বে বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) চেয়ারম্যান আবু নাসের খান। শনিবার (০৫ আগস্ট) পবার নিজস্ব কার্যালয়ে ‘ঢাকা সিটি করপোরেশনের বাজেট ও কার্যক্রম পর্যালোচনা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে এ মন্তব্য করেন তিনি।
আবু নাসের খান বলেন, ‘ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র তার সংস্থার বাজেটকে কেন্দ্র করে যেসব মন্তব্য করেন, তা থেকে লক্ষ্য করা যায় সিটি করপোরেশনের জন্য বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হলে আরও অধিক হারে উন্নয়ন সম্ভব। সেই সঙ্গে শুধুমাত্র মেয়রের সক্ষমতা বৃদ্ধি না করে সমগ্র করপোরেশনের সক্ষমতা বৃদ্ধির দিকে নজর দিতে হবে। কেননা, বর্তমানে প্রত্যেকটি সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম মেয়রকেন্দ্রিক। শুধুমাত্র একজন মেয়রের পক্ষে সব রকম পরিকল্পনা,কার্যক্রম পরিচালনা ও তদারকি করা সম্ভব নয়।’
পবা চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘বর্তমানে যাতায়াত সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। এই সংকট নিরসনে সিটি করপোরেশনের ভূমিকায় আমরা হতাশ। উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়রের ৪ হাজার নতুন বাস চালু করার উদ্যোগ ছাড়া সামগ্রিক যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়নে মেয়রদ্বয়ের উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। যদিও অনেক প্রকল্প গ্রহণ করার কথা হচ্ছে। কিন্তু বিভিন্ন সংস্থা সমন্বয়হীনভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ করছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন এলাকায় জনসাধারণের ব্যবহৃত মাঠ এবং পার্কগুলো ময়লার ট্রান্সফার স্টেশন বা বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের কারণে ব্যাবহারের অনুপযোগী হয়ে যাচ্ছে। জনসাধারণের ব্যাবহারের এ সব মাঠ বা পার্ক দখল না করে বরং এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণে সিটি করপোরেশনের বাজেটে টাকা বরাদ্দ রাখতে হবে। এছাড়া নাগরিকদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে ব্যাপক প্রচার চালাতে হবে।’
গোলটেবিল বৈঠকে আরও বক্তব্য রাখেন পবা’র সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আবদুস সোবহান, মডার্ন ক্লাবের সভাপতি আবুল হাসানাত, পবা’র সম্পাদক সৈয়দ মাহাবুবুল আলম তাহিন, ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বল,পবা’র সহসম্পাদক স্থপতি শাহীন আজিজ, এম এ ওয়াহেদ, নিশাত মাহমুদ, সদস্য প্রকৌশলী তোফায়েল আহমেদ, সাগিরুজ্জামান শাকীক, বানিপা’র সভাপতি আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।
যানজট, জলাবদ্ধতা, ঢাকা ও এর চারপাশের নদ-নদী,খাল-বিল,জলাশয় এবং নিম্নাঞ্চল দখল-ভরাট-দূষণ,পয়ঃ বর্জ্য,কঠিন বর্জ্য ঢাকা মহানগরীকে মহাবিপর্যয়ের দিকে ধাবিত করছে উল্লেখ করে আলোচনা সভায় বক্তারা এ পরিস্থিতি রোধে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ওয়াসা, রাজউক, পরিবেশ অধিদফতরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তারা প্রত্যাশা করেন, এসব কাজে সিটি করপোরেশন নেতৃত্বে দেবে।
এসময় বক্তারা আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়গুলোতে মশক নিয়ন্ত্রণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় এডিসসহ সব ধরনের মশার বংশবিস্তার রোধে সিটি করপোরেশন ও স্বাস্থ্য অধিদফতরকে ক্রাশ প্রোগ্রামের মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ হাতে নেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তাদের ব্যর্থতার কারণেই চিকুনগুনিয়া মারাত্মকভাবে বিস্তার লাভ করে মহামারী পর্যায়ে চলে গেছে। নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখার উদ্যোগের সমালোচনা করে বক্তারা বলেন, গত বছর ৫ হাজার ৭০০টি মিনি ডাস্টবিন স্থাপন করেছে ডিএসসিসি,কিন্তু তাতেও সফলতা নেই। যথাযথ পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে আন্তরিকতার অভাবে টাকা খরচ হলেও ফল শূন্য। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়, যেমন বন্যা, মহামারী, অতিবৃষ্টি বা ভূমিকম্পের জন্য আগাম প্রস্তুতি এবং প্রয়োজনীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার জন্য ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের বাজেটে যৎসামান্য (১ কোটি করে) বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষ কর্মী তৈরি করা খুবই জরুরি।
এমটি /এএম








