বৃষ্টিতে বেড়েছে সবজির দাম, নিম্নবিত্তের পরিবারে আকাল

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১২ আগস্ট ২০১৭, ১২:১৫আপডেট : ১২ আগস্ট ২০১৭, ১২:১৫

চার সদস্যের পরিবার রাহেলাদের। নিজে বাসা-বাড়িতে কাজ করেন, মেয়ে গার্মেন্টসে, ছেলে রিকশা চালায়। এবারের বর্ষা তাদের জন্য ‘আকাল’ উল্লেখ করে রাহেলা বলেন, ‘মেয়ের জমজ সন্তানকে সবজি-খিচুড়ি খাওয়াতে হয় একবেলা। আমরা তিনজনে আয়-রোজগার করেও সেটা জোগাড় করতে পারছি না। গত কয়েকদিন শুধু খিচুড়ি খাওয়াচ্ছি। নিজেরা ডাল-ভাত আর যে একপদের সবজি (বাজারের সবচেয়ে কম দামি) খাই, কোলের সন্তানদের সেটা পানি দিয়ে ধুয়ে খাওয়াই। আলাদা করে রান্না করার সুযোগ নাই।’

বিভিন্ন সবজি (ছবি: সংগৃহীত) পরিবারের সবার আয়ের পরও যেখানে এই অবস্থা, সেখানে আরও স্বল্প আয়ের সংসারে সবজি-পেঁয়াজ, মরিচের নাগাল পাওয়ার প্রশ্নই আসে না। দোকানিরা ঘুরেফিরে বেশি বৃষ্টিকেই দায়ী করছেন দাম বাড়ার জন্য।

রাজধানীর এলাকাভিত্তিক বাজারগুলোতে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬০ টাকায়। অধিকাংশ সবজি প্রতি কেজির দাম এখন ৫০ টাকার বেশি। লাল শাক এক আঁটি ৩০টাকা, পুঁইশাক ৩৫ টাকা। কমেনি চালের দামও, মোটা চালের কেজিও এখন কোথাও কোথাও ৫০ টাকা রয়ে গেছে।

শনিবার সকালে শ্যাওড়াপাড়া ও ইব্রাহিমপুর কাঁচাবাজারে গিয়ে দেখা যায় বৃষ্টির মধ্যে বিভিন্ন সবজির কেজি প্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা দাম বেড়েছে গত সপ্তাহের তুলনায়। প্রতি কেজি করলা ৭০ টাকা, কাকরোল ৬০ টাকা, ঢেঁড়শ ৫০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ থেকে ৭০ টাকা।

অবসরে থাকা সরকারি কর্মকর্তা শফিকুর রহমান শ্যাওড়াপাড়া কাঁচাবাজারেই বাজার করেন। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত এক সপ্তাহে বাজার চড়ে গেছে। নিচু জমির সবজি বর্ষাকালে এমনিতেই দাম বাড়ে, ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি। তাই বলে আলু-পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়াটা অস্বস্তিকর।’
তিনি আরও বলেন, ‘করলা জাতীয় সবজি এখন বারোমাসই হয় এবং উঁচু জমিতে হয়। বৃষ্টিতে যাতায়াত বিঘ্নিত হওয়ায় আমরা সাধাররণ মানুষ হয়রানিতে পড়ছি এবং এই বাজার নিয়ে প্রশাসনের কারও কোনও মাথাব্যথা নেই।’

এদিকে মিরপুর-১০ এর পাইকারি দোকানদার বেলায়েত হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পাইকারি বাজারে মিনিকেটের ৫০ কেজির বস্তা ২ হাজার ৬০০ থেকে সাড়ে ৬০০ টাকা, বিআর ২৮ এর বস্তা ২৩শ করে বিক্রি হচ্ছে। খুচরায় মোটা চালের দাম কেজিপ্রতি ৪৫ থেকে ৫২ টাকা, মিনিকেট কেজি প্রতি মিনিকেট বাজার ভেদ মান ভেদে ৫৬ থেকে ৬০, নাজিরশাইল মানভেদে ৫৮ থেকে ৬২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’

ইব্রাহিমপুর কাঁচাবাজারে নিয়মিত বাজার করে বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত রাসেল মাহমুদ। শনিবার সকালে বাজারে এসে তিনি সবজির দাম শুনে হতবাক। গত সপ্তাহের তুলনায় সবজির দাম এত বেড়ে গেছে কিন্তু কারও কোনও মনিটরিং নাই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সাধারণ মানুষ আয় করে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা। প্রোটিন দূরে থাক, সবজিই তো নাগালের বাইরে।’

এখানকার দোকানি রহমান মনে করেন, পেঁয়াজের বাজারে বড় ধরনের কারসাজি চলছে। তারা চড়া দামে কেনেন বলে চড়া দামে বিক্রি করেন। কিন্তু দামটা কেন বাড়ছে সে বিষয়ে পাইকারি দোকানদাররা তাদের কোনও সদুত্তর দিতে পারে না।

/ইউআই/এমও/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম