হজযাত্রী পরিবহনের জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ঢাকা-দোহা রুটের ৫টি ফ্লাইট বাতিল করেছে। এছাড়া ঢাকা-লন্ডন রুটের একটি করে ফ্লাইট কমানো হয়েছে। ফলে এই রুটের যাত্রীদের বিপাকে পড়তে হবে। একই সঙ্গে বাড়বে বিমান বাংলাদেশের লোকসান। হজ ফ্লাইট এবং ওই দুই রুটের নিয়মিত ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বিমানের দেড়শ কোটি টাকার মতো ক্ষতি হবে। বিমান বাংলাদেশ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
বিমান বাংলাদেশে এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ রবিবার (১৩ আগস্ট) বলেন, ‘শেষ সময়ে হজযাত্রী পরিবহনের অতিরিক্ত বিমানের প্রয়োজন। এজন্য ২৬ আগস্ট পর্যন্ত ঢাকা-দোহা ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকা-লন্ডন রুটে সপ্তাহে চারটির পরিবের্ত তিনটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। ফলে এ ফ্লাইট দিয়ে রুটের পরিবর্তে হজযাত্রী বেশি পরিবহন সম্ভব হবে।’
বাংলাদেশে থেকে এখন পর্যন্ত ৫৯ হাজার ১২২ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে গেছেন। এ বছর বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে যাওয়ার কথা। ফলে এখনও অর্ধেকেরও বেশি হজযাত্রীর যাওয়া বাকি। চলতি মৌসুমে হজ ফ্লাইট শুরু হয় ২৪ জুলাই,চলবে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত।
জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ১ সেপ্টেম্বর পবিত্র হজ শুরু হবে। বাংলাদেশ থেকে রাষ্ট্রয়াত্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্স হজ যাত্রী পরিবহন করছে। রবিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ৮টা পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ ২৭ হাজার ৮৪৪ জন এবং সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্স ৩১ হাজার ২৭৮ জন হজ যাত্রী পরিবহন করছে।
আগামী ২৪ ঘণ্টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৫টি হজ ফ্লাইট পরিচালনা করবে বলে জানিয়েছেন শাকিল মেরাজ। তিনি বলেন, ‘এর মধ্যে দুটি ফ্লাইট চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে যাবে। আজ (রবিবার) কোনও হজ ফ্লাইট বাতিল হয়নি। এখন পর্যন্ত বিমানের ২১টি ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে যাত্রী সংকটের কারণে।’
সূত্র জানায়, হজ এজেন্সিগুলোর গাফিলতির ও অতি মুনাফার লোভের কারণেই একের পর এক হজ ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। হজ ফ্লাইট শুরুর পর থেকে ভিসা জটিলতায় ও হজ যাত্রীদের বাড়ি ভাড়া সংক্রান্ত কারণে প্রায় ২৫টি হজ ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। নিয়ম অনুসারে,হজ যাত্রীদের ফ্লাইটের আগেই সৌদি আরবে বাড়ি ভাড়া করে ভাড়ার রসিদ ও বিমানের টিকিট নিশ্চিত করে হজ অফিস থেকে ডিও লেটার নিতে হয়। সৌদি আরবে বাড়ি ভাড়া না করার কারণে অনেক হজ যাত্রী ভিসা পেয়েও যেতে পারছেন না।
তবে নির্ধারিত সময়ের আগে সব হজ যাত্রীর ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হবে, বলে জানিয়েছে হজ অফিসের পরিচালক সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘প্রতিনিয়ত ভিসার আবেদন বাড়ছে। আশা করছি সঠিক সময়ের মধ্যে সবার ভিসা হয়ে যাবে। সব হজ যাত্রী সৌদি আরবে যেতে পারবেন।’
/সিএ/এসটি/








