বিচারপতিদের কেউ কেউ সামরিক শাসনকে বৈধতা দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মেজবাহ কামাল। তিনি বলেন, ‘এই বৈধতা দেওয়ার জন্য তাদের কাউকে আমরা কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে পারিনি। আমাদের আদালত এখনও ঔপনেবিশক কায়দায় রয়ে গেছে। কোর্ট নিয়ে জুজুর ভয় কাজ করছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, প্রত্যেকেই কিন্তু অ্যাকাউন্টেবল।’
বৃহস্পতিবার (২৪ আগস্ট) বিকালে বাংলা ট্রিবিউন স্টুডিওতে আয়োজিত ‘সংবিধান, সংসদ ও স্বাধীনতা’ শীর্ষক বৈঠকিতে এসব কথা বলেন ঢাকা মেজবাহ কামাল।
ঢাবি ইতিহাস বিভাগের এই অধ্যাপক বলেন, ‘ষোড়শ সংশোধীন বাতিল করে জাতীয় সংসদের অধিকার হরণ করা হয়েছে। আমাদের এখানে সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিল নামে একাট ঘোড়ার ডিম আছে। এটা কোনও কাজের না।’
মেজবাহ কামাল বলেন, ‘আওয়মী লীগের নেতাদের কাছে বলতে চাই, জাতীয় সংসদের অধিকার নিয়ে কথা বলুন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মূল জায়গা থেকে সরে এসেছেন। তারা রায়ের পর্যবেক্ষণ নিয়ে কথা বলছেন। কিন্তু রায় নিয়ে রিভিউ করা দরকার।’ তিনি আরও বলেন, ‘‘প্রধান বিচারপতি তার রায়ের পর্যবেক্ষণে দেশের রাজনীতিদের ‘ইমম্যাচিউর’ বলেছেন। কিন্তু আমি আামাদের দেশের রাজনীতিবিদদের ইমম্যাচিউর মনে করি না। এই রাজনীতিবিদরাই দেশ স্বাধীন করেছেন। তারা গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছেন।’
মেজবাহ কামাল বলেন, ‘রায়ের পর্যবেক্ষণে তার (প্রধান বিচারপতি) ব্যক্তিগত অনেক মত আছে, যা তিনি বলতে পারেন না। আমাদের প্রধান বিচারপতি পাকিস্তানের উহাহরণ টেনেছেন। কিন্তু এটা (বাংলাদেশ) তো পাকিস্তান না। আমাদের প্রধানমন্ত্রী অনেক সুদৃঢ় অবস্থানে আছে।’ রায়ের পর প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে করা সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আমার প্রধান বিচারপতির সমালোচনা করব। কিন্তু তাকে অসম্মান করব না। কোনও কোনও মন্ত্রী যে ভাষায় তাকে নিয়ে কথা বলছেন, সেটা কাঙ্ক্ষিত নয়।’
বৈঠকিতে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, আওয়ামী লীগের সাংগাঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক গোবিন্দ চক্রবর্তী, সাংবাদিক স্বদেশ রায় ও বাংলা ট্রিবিউনের প্ল্যানিং এডিটর নজরুল কবীর।
মুন্নী সাহার সঞ্চলনায় বৈঠকিটি সরাসরি সম্প্রচারিত হয় এটিএন নিউজে। এটি বাংলা ট্রিবিউনের ফেসবুক পেজেও সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
আরও পড়ুন-
‘বিচারপতিরা কি সব জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে’
‘রায়ের অবজারভেশন সুপ্রিম কোর্টের নয়, প্রধান বিচারপতির নিজের’








