ঈদযাত্রার শেষ সময়ে এসে রেলস্টেশন, বাস ও লঞ্চ টার্মিনালগুলোয় দেখা গেছে উপচেপড়া ভিড়। তবে সময়মতো মিলছে না গাড়ি। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন নারীরা। শুক্রবার সরেজমিনে রাজধানীর বাস, ট্রেন ও লঞ্চ টার্মিনাল ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
গাবতলী বাস টার্মিনালে ভোর থেকে ছিল ভিড়। এই টার্মিনাল থেকে ভোরের গাড়িগুলো সময়মতো ছেড়েও গেলেও দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নির্ধারিত সময় গাড়ি যেতে পারেনি। কারণ হিসেবে পরিবহনের কর্মীরা জানিয়েছেন, যেসব গাড়ি ফিরে এসে যাওয়ার কথা রয়েছে, মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট থাকায় সেগুলো আসতে পারেনি। তাই বেলা ১০টার পর গাড়িগুলো সময়মতো যেতে পারেনি।
গাবতলী থেকে বেলা ৯ টার দিকে সাকুরা পরিবহনের গাড়ি পটুয়াখালী যাওয়ার কথা থাকলেও বিলম্ব হয়েছে। তাই গাবতলী টার্মিনালে বসে ছিল অর্ধ-শতাধিক যাত্রী। জাফর আলী নামে একজন ব্যক্তি তার দুই সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন। বেলা ১০ টার দিকেও গাড়ি না আসায় তারা অপেক্ষা করতে করতে ক্লান্ত। তিনি বলেন, ‘আমরা সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে এখানে এসেছি। এখনও গাড়ি আসেনি। গাড়ি পথে আছে।’
বেলা ১১টার দিকে গাবতলীর হানিফ পরিবহনের কাউন্টারেও দেখা গেছে ভিড়। দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের গাড়িও সময়মতো যাচ্ছে না। প্রতিটি গাড়ি অন্তত একঘণ্টা বিলম্ব হচ্ছে।
হানিফ পরিবহনের কাউন্টার ম্যান রাসেল জানান, সবগাড়ি সময়মতো ছাড়ছে। আধাঘণ্টা এদিক সেদিক স্বাভাবিক। যাত্রীরা খুশি আছে। কোনও অভিযোগ নেই।
এদিকে রাজশাহী, চাপাইনবাবগঞ্জ, নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া বিভিন্ন পরিবহনের গাড়ির ছাদে মানুষ নিতে দেখা গেছে। ঝুঁকিপূর্ণভাবে মানুষ কম ভাড়ায় ছাদে যাচ্ছে। তবে এতে কোনও বাধা দিচ্ছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী থেকে বিভিন্ন রুটে বাসের জন্য সকাল থেকেই অপেক্ষা ছিল মানুষের। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টার্মিনালের ভিড় কমে যায়।
এদিকে কমলাপুর রেলস্টেশনে থেকে প্রতিটি ট্রেনই সকাল থেকে দেরি করে ছেড়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। উত্তরাঞ্চলের মানুষ সকাল থেকে কমলাপুর প্লাটফর্মে অপেক্ষায় ছিলেন। ট্রেন আসার সঙ্গে সঙ্গে তারা দ্রুত ট্রেনে উঠে পড়েন।
নীল সাগর এক্সপ্রেস ছাড়ার কথা ৮ টায় ছেড়েছে সাড়ে ১০ টায়, রংপুর এক্সপ্রেস ছাড়ার কথা ৯ টায় ছেড়েছে সকাল ১০ টায়, জামালপুরের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস, খুলনার সুন্দরবন এক্সপ্রেস ছাড়ার কথা ৭ টা ২০মিনিটে, সেটি ছেড়েছে ৯ টা ২০ মিনিটে, রাজশাহীর ধূমকেতু এক্সপ্রেস ছাড়ার কথা ৬ টায়, সেটি দেরি করেছে সোয়া একঘণ্টা।
হালিম মোস্তফা নামে একজন ব্যক্তি ইসলামপুরে কাপড়ের ব্যবসা করেন। পরিবার নিয়ে তিনি খুলনায় গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছেন। খুলনা সুন্দরবন এক্সপ্রেসে যাবেন বলে ভোর সাড়ে ৬ টায় কমলাপুরে আসেন। কিন্তু ট্রেন ৯ টার দিকে প্লাটফর্মে আসে। দুই ঘণ্টা তারা বসে ছিলেন প্লাটফর্মেই। ট্রেনের জানালা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আরও দেরি করলে বা কী করার আছে? এসব দেখার কেউ নেই। মানুষ সব ভোগান্তি মেনে নিয়েছে।’
কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার সীতাংশু চক্রবর্তী জানান, ‘কমলাপুর থেকে ৫৩টি ট্রেন ছেড়ে যাবে আজ। সামান্য বিলম্ব হচ্ছে দুই/একটি ট্রেনের। বাকিগুলো সময়মতো ছেড়ে যাচ্ছে।’
সদরঘাটেও দেখা গেছে দক্ষিণাঞ্চলে যাওয়া মানুষের ভিড়। ভোরে গিয়েই অনেকে লঞ্চ ও স্টিমারে গিয়ে বসে ছিলেন। বেলা ১২ টার মধ্যে প্রতিটি জাহাজে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। তাই দুপুর নাগাদ বরিশাল, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, ঝালকাঠী, ভাণ্ডারিয়া, ভোলা, চাঁদপুর, হুলারহাট, বরগুনাসহ বিভিন্ন জেলার উদ্দেশে লঞ্চ ও বড় স্টিমারগুলো ছেড়ে যায়। প্রতিটি লঞ্চেরই ছাদে মানুষ নিতে দেখা গেছে।
হাবীব নামে একজন ফল ব্যবসায়ী মিরপুর থেকে বেলা ১১টায় সদরঘাটে আসেন। তিনি পটুয়াখীল যাবেন। লঞ্চ তখনও ঘাটে আসেনি। তিনি নৌকা নিয়ে বুড়িগঙ্গার মাঝখানে নোঙর করে রাখা জাহাজে গিয়ে ওঠেন। অনেক যাত্রীকেই এভাবে উঠতে দেখা গেছে।








