বন্ধুরা সিনেমা হলে গেছেন সাকিব খানের ছবি দেখেতে। আর আরিফ, রাজন, সোলেমান ধানমন্ডির ৩২ নাম্বরে ছুটে এসেছেন বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর দেখতে। কিন্তু হতাশ হয়েই ফিরে যেতো হলো তাদের। কারণ ঈদের ছুটিতে ১,২ ও ৩ সেপ্টম্বর বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর বন্ধ রয়েছে। এ কারণে এ তিন বন্ধু বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর দেখতে পাননি। শুধু তারা নন, ঈদের ছুটিতে ঢাকার আশ-পাশের জেলা থেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আসছেন বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর দেখতে। এ তিন বন্ধুর মতো অন্যরাও হতাশা নিয়ে ফিরে গেছেন।
রবিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে কথা হয় টঙ্গীর গাজীপুরা থেকে আসা তিনবন্ধু আরিফ, রাজন, সোলেমানের সঙ্গে। তারা একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। ঈদে তিন দিন ছুটি পেয়ে বন্ধুরা মিলে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর দেখতে এসেছেন।
তিন বন্ধু বলেন, ‘আমাদের আরও কয়েকজন বন্ধু ছবি দেখতে হলে যাচ্ছে। আর আমরা জাতির পিতার প্রতি ভালোবাসা থেকে এসেছি এখানে। কিন্তু এসে দেখি বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর বন্ধ। তাই বঙ্গবন্ধু ছবির সামনে কয়েকটা ছবি তুলেছি।
তিন বন্ধুর দাবি, ঈদের সময় যেনও বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর খোলা রাখা হয়। কারণ ঈদের সময় টানা দুই থেকে তিন দিন ছুটি পাওয়া যায়। সব বন্ধুরা একত্র থাকি। ঈদ ছাড়া মানুষ তেমন একটা ছুটি পাই না। তাই চাইলে সবাই মিলে প্রিয় নেতার বাড়ি বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর দেখতে আসতে পারি না।
রাজধানীর শনির আখড়া একটি বিদ্যালয়েল শিক্ষক-শিক্ষিকা তাদের দুই ছেলেমেয়ে নিয়ে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর দেখতে এসেছেন। শিক্ষিকা ফারজানা বলেন, ‘ঈদের কারণে আমাদের ও ছেলেমেয়েদের স্কুল বন্ধ। তাই সবাইকে নিয়ে আসছি জাদুঘর দেখতে। এসে শুনতে পেলাম ঈদের কারণে তিন দিন বন্ধ। কী আর করবো, এদিকে-সেদিক ঘুরে বাসায় চলে যাবো।’
শিক্ষক ফারজানা আরও বলেন, ‘টেলিভিশন কিংবা প্রত্রিকা, কোথাও দেখলাম না, ঈদের কারণে জাতির পিতার স্মৃতি জাদুঘর বন্ধ থাকবে। তবে ঈদের সময় এটা খোলা রাখা দরকার। কারণ ঈদ ছাড়া একটা পরিবারের সবার এক সঙ্গে ছুটি থাকে না। তাই চাইলেও অন্য সময় কেউ স্বপরিবারে বাঙ্গালি জাতির ইতিহাস সমৃদ্ধ পিতার স্মৃতি জাদুঘর দেখতে আসতে পারবে না।’
রাজধীর উত্তরা থেকে শাহজাহান মিয়া সাজু স্বপরিবারে আসছেন বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর দেখতে। তিনি বলেন, ‘বউ অনেক দিন ধরে বলছে বঙ্গবন্ধুর হত্যার সময়ের রক্তমাখা জামা-কাড়প দেখবে। তাই ভাবলাম ঈদের কারণে ব্যবসা বন্ধ আছে। এ সুযোগে বউ ও দুই মেয়ে নিয়ে এসেছি। কিন্তু এসে দেখি বন্ধ।’
শাহজাহান মিয়া আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু আমার প্রিয় নেতা। আমি আগে আরও একবার এসেছি একা।
রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজ হাসপাতালে আয়ার চাকরি করেন মাসুদা বেগম। তিনি থাকেন শিকদার মেডিক্যাল হাসপাতাল এলাকায়। মেয়েকে জাদুঘর দেখাতে নিয়ে এসে জানতে পারেন বন্ধ রাখা হয়েছে জাদুঘর।
একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করেন নাদিম উদ্দিন। ঈদে পরে স্ত্রীর মাস্টার্স পরীক্ষা থাকায় বাড়িতে যাননি। তাই আজ দুই জন এসেছেন বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর দেখতে। নাদিম বলেন, ‘ছাত্রজীবনে বঙ্গবন্ধুর আর্দশ ধারণ করে ছাত্ররাজনীতি করেছি। তাই বউকে নিয়ে এসেছি প্রিয় নেতার জাদুঘর দেখাতে। এসে জানতে পারলাম তিন দিন বন্ধ।’
নাদিম আরও বলেন, ‘আমি মনে করি ঈদের সময় বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর খোলা রাখা উচিত। কারণ এ সময় টানা কয়েকদিন বন্ধ থাকার কারণ মানুষ স্বপরিবারে এখানে আসেন। আমি এখানে প্রায় আধাঘণ্টা ধরে আছি, দেখলাম প্রায় ১০টি পরিবার এসেছে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর দেখতে। বন্ধ শুনে সবাই হতাশ হয়ে ফিরে গেছেন।’
শুধু এ কয়েকটি পরিবার নয় ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর দেখতে সকাল থেকে শত শত বঙ্গবন্ধু ভক্ত এসেছেন। সবাইকেই হতাশা নিয়ে ফিরে যেতে হয়েছে।’
প্রসঙ্গত, ঈদ ছাড়া বছরের অন্য সময় বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সাপ্তাহিক ছুটি বুধবার ছাড়া বাকি ছয় দিন খোলা থাকে। সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। টিকিটের মূল্য পাঁচ টাকা। তিন বছরের কম বয়সীদের কোনও টিকিট প্রয়োজন হয় না।








