রোহিঙ্গা সংকট ইস্যুতে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চির তীব্র সমালোচনা করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। রোহিঙ্গা নির্যাতনকে সু চি যেভাবে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন, তা অত্যন্ত ঘৃণিত বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। এই ইস্যুতে বাংলাদেশ ক্ষুব্ধ ও চিন্তিত বলেও জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। সোমবার (০৪ সেপ্টেম্বর) ঈদের ছুটির পর প্রথম কর্মদিবসে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সোমবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে সচিবালয়ে ঢোকেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এসময় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. ইউনুসুর রহমান, অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব হেদায়েত উল্লাহ আল মামুনসহ অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলাপ করেন অর্থমন্ত্রী। এসময় তিনি বলেন, ‘মানুষের মধ্যে এখন মিয়ানমারের রোহিঙ্গা ইস্যুতে উদ্বেগ আছে। এ বিষয়ে আমরাও উদ্বিগ্ন, একইসঙ্গে ক্ষুব্ধও।’
এ প্রসঙ্গে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সু চির তীব্র সমালোচনাও করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘শান্তিতে নোবেল প্রাইজ জয়ী অং সান সু চি রোহিঙ্গা নির্যাতনকে কিভাবে সমর্থন করে যাচ্ছেন, বিষয়টি আমার বোধগম্য নয়। এ নিয়ে তিনি যে পদক্ষেপ নিয়েছেন, তা ঘৃণিত।’
গত ২৪ আগস্ট রাতে রাখাইন রাজ্যের অন্তত ৩০ পুলিশ ও সেনা পোস্টে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। এর জের ধরে রাজ্যের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমান অধ্যুষিত গ্রামগুলোয় কঠোর অভিযান শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী। তারা নির্বিচারে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, হত্যা ও ধর্ষণও চালাতে থাকে। সু চি এ নিষ্ঠুর দমন-পীড়ন বন্ধে কোনও পদক্ষেপ নেননি। বরং একতরফাভাবে সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়ে তা কঠোরভাবে দমনের কথা বলেছেন। তার এ ভূমিকা আন্তর্জাতিকভাবেই সমালোচিত হচ্ছে।
এর আগেও গত বছরের অক্টোবরে রোহিঙ্গাদের ওপর ব্যাপক দমন-পীড়ন চালায় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। তখনও চুপ থেকে সমালোচিত হয়েছিলেন সু চি।
দমন-পীড়ন থেকে প্রাণ বাঁচাতে গত ক’দিনে অন্তত ৯০ হাজার রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে। বিজিবি অনুপ্রবেশে বাধা দিলেও যারা ঢুকে পড়েছে তাদের মানবিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে বাংলাদেশেও কেউ কেউ দাবি তুলছেন। তবে আন্তর্জাতিক জনমত ও চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার।
এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে আমরা আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইছি। আবার মিয়ানমারের সঙ্গেও সম্পর্ক ভালো রাখার চেষ্টা করছি।’








