কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শেষ করতে পারছে না নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সাংবিধানিক এ সংস্থাটি সংলাপের যে সিডিউল ঘোষণা করেছে, তাতে টার্গেট করা সময়ের মধ্যে নিবন্ধিত ৪০টি রাজনৈতিক দলের অর্ধেক দলের সঙ্গে সংলাপ শেষ হতে পারে। সব দলের সঙ্গে সংলাপ শেষ করতে হলে আরও দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় লাগবে। এক্ষেত্রে মধ্য অক্টোবরের আগে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
অবশ্য ইসি বলেছে, তারা নির্ধারিত সময়ে রাজনৈতিক দলের সংলাপ শেষ না হলেও টার্গেট করা সময়ের মধ্যে সব সংলাপ শেষ করা যাবে। রাজনৈতিক দলের বাইরে নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা, নারী নেত্রী ও নির্বাচন পরিচালনা বিশেষজ্ঞ—এই তিন শ্রেণির অংশীজনের সঙ্গে ইসির সংলাপ করার কথা রয়েছে।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন গত ১৬ জুলাই রোডম্যাপ ঘোষণা করে। দেড় বছর মেয়াদি এই কর্মপরিকল্পনায় ৬ ধরনের অংশীজনের সঙ্গে সংলাপসহ ৭টি করণীয় নির্ধারণ করে। অংশীজনের সংলাপের মধ্যে সুশীল সমাজের সংলাপের তারিখটি রোডম্যাপে সুনির্দিষ্ট করে দিয়ে সেই অনুাযায়ী ৩১ জুলাই তাদের সঙ্গে ইসি সংলাপ করে। রোডম্যাপে আগস্টে গণমাধ্যম, আগস্ট-সেপেম্বর রাজনৈতিক দল ও অক্টোবরে নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা, নারী নেত্রী ও নির্বাচন পরিচালনা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সংলাপের সময়সীমা নির্ধারণ হয়।
কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমের সঙ্গে ইসির সংলাপ করতে পারলেও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপে ছন্দপতন ঘটেছে। রাজনৈতিক দলের সঙ্গে দুই মাসব্যাপী সংলাপের প্রথম মাসে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মধ্যে মাত্র ৫টির সঙ্গে সংলাপ করতে সক্ষম হয়েছে ইসি। দলগুলোর মধ্যে ২৪ আগস্ট বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (মুক্তিজোট), ২৮ আগস্ট বাংলাদেশ মুসলীম লীগ ও খেলাফত মজলিশ এবং ৩০ আগস্ট বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সঙ্গে সংলাপ করেছে। ২৪ আগস্ট বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) সংলাপের সময় নির্ধারণ করলেও পরে দলটি সংলাপের নতুন সময় চেয়েছে। এই ৫টি দলের সঙ্গে সংলাপ ছাড়াও আরও ১৪টি দলের সঙ্গে সংলাপের সময় নির্ধারণ করেছে ইসি। আগামী ১০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ১২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও ইসলামী ঐক্যজোট, ১৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি ও ইসলামিক ফ্রন্ট, ১৭ সেপ্টেম্বর ঐক্যবদ্ধ নাগরিক অন্দোলন ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, ১৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (বাংলাদেশ ন্যাপ) ও প্রগতিশীল গণতান্ত্রীক দল (পিডিপি), ২০ সেপ্টেম্বর গণফ্রন্ট ও গণফোরাম এবং ২১ সেপ্টেম্বর জামিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) সঙ্গে সংলাপের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে আরও কয়েকটি দলের সংলাপের সময় নির্ধারণ হতে পারে বলে জানা গেছে।
ইসি সূত্র জানায়, চলতি সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা বিদেশ সফরে যাবেন। যার কারণে এ মাসের শেষ সপ্তাহে সংলাপ অনুষ্ঠানের সম্ভাবনা নেই। বাকি ২১টি দলের সঙ্গে টানা সংলাপ চালিয়ে গেলেও দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় লাগবে। সেক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত গড়িয়ে যেতে পারে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সেপ্টেম্বরে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ শেষ করার পরিকল্পনা ছিল। তবে মনে হয়ে, সেটা সম্ভব হবে না। চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে সিইসি দেশের বাইরে যাচ্ছেন। সেই সময় হয়তো আমরা সংলাপের সিডিউল রাখব না। আশা করছি, অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শেষ করতে পারব। এছাড়া অন্যান্য যাদের সঙ্গে সংলাপের পরিকল্পনা রয়েছে সেটাও অক্টোবরের মধ্যেই আমরা করতে পারব বলে আশা করছি। আগামী সপ্তাহে নতুন করে কয়েকটি দলের সঙ্গে সংলাপের সিডিউল হবে বলেও তিনি জানান।
আওয়ামী লীগের আগে বিএনপির সংলাপ
নির্বাচন কমিশন দেশে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন নম্বরের পেছনের দিক থেকে শুরু করেছে। প্রতিদিন দু‘টি দলের সঙ্গে সংলাপ করে ক্রমান্বয়ে ওপরের দিকে আসছে কমিশন। ইসির নিবন্ধন ক্রমিকে দেখা গেছে, বিএনপি ৭ নম্বর ও আওয়ামী লীগ ৬ নম্বরে রয়েছে। এ হিসেবে বিএনপির সংলাপ আওয়ামী লীগের আগে হওয়ার কথা রয়েছে। ইসির পরিকল্পনা অনুসারে সংলাপ হলে সব শেষে সংলাপ হবে লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলিডিপি) সঙ্গে।
এ বিষয়ে ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব জানান, আমরা নিবন্ধনের শেষ দিক থেকে সংলাপ করছি। আর নিবন্ধন অনুসারে বিএনপি আওয়ামী লীগের পরেই রয়েছে। সেই হিসেবে আওয়ামী লীগের আগেই বিএনপির সংলাপ অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। তবে, আমরা সংলাপের তারিখ ঠিক করার আগে সংশ্লিষ্ট দলের সঙ্গে আলাপ করছি। অন্যান্য দলের মতো আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আমরা আলাপ করব। তাদের কোনও সুবিধা-অসুবিধা থাকলে সেক্ষেত্রে হয়তো সময় কিছুটা আগানো-পেছানো হতে পারে।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ৩১ জুলাই সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপের মধ্য দিয়ে নির্বাচন বিশেষজ্ঞসহ অংশীজনদের সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপ শুরু করে ইসি। পরে ১৬ ও ১৭ আগস্ট গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে কমিশন সংলাপে বসে। এর পরে ইসি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ধারাবাহিকতা সংলাপ শুরু করেছে, যেটা বর্তমানে চলমান রয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর দলের সঙ্গে আলোচনা শেষে নির্বাচন পর্যবেক্ষক, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও নারী নেত্রীদের সঙ্গে বসবে ইসি।








