রোহিঙ্গাদের পালানোর পথেও মৃত্যুফাঁদ (ভিডিও)

আমানুর রহমান রনি,কক্সবাজার থেকে
০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৩:৪২আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৪:৩১

বাংলাদেশে পালিয়ে আসছে রোহিঙ্গারা, ছবি ফোকাস বাংলা

বাংলাদেশে পালিয়ে আসার পথ সহজ ছিল না রোহিঙ্গাদের জন্য। পদে পদে ছিল মৃত্যুফাঁদ। দেশ থেকে তাড়া খেয়ে পালিয়ে আসার সময় অনেক রোহিঙ্গাই স্বজন হারিয়েছেন। কেউ মিয়ানমারের সেনাদের হাতে,কেউ নৌকা ডুবিতে প্রাণ হারিয়েছেন। আবার কেউ কেউ জঙ্গল ও পাহাড়ে হারিয়ে গেছেন। কারও কারও লাশ মিলেছে, কারও মেলেনি। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে এসব কথা জানা গেছে।

২০ বছরের আসমিরার বিয়ে হয় ১৬ বছর বয়সে। স্বামী আজিজুল হকের সঙ্গে থাকতেন মিয়ানমারের বুচিদং থানার সাংগামা পাড়ায়। বাবার বাড়িও একই জায়গায়। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী তাদের বাড়িতে আগুন দেওয়ার পর শ্বশুর ও বাবার বাড়ির সবাই একইসঙ্গে বাংলাদেশের দিকে রওনা দেন। ১৩ দিন ধরে তারা পাহাড়-জঙ্গল পাড়ি দিয়ে বৃহস্পতিবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকালে উখিয়ার বালুখালী পৌঁছান। তার কোলে দুই বছরের মেয়ে। শ্বশুর বাড়ির সবাই বাংলাদেশে আসতে পারলেও তার স্বামী, মা-বাবা ও ভাই-বোন কাউকেই খুঁজে পাচ্ছেন না। অথচ বাবা আবুল কালাম (৬০), মা খোদেজা বেগমকে (৫০)সঙ্গে নিয়েই রওনা হয়েছিলেন।

রোহিঙ্গাদের পালানোর পথেও মৃত্যুফাঁদ (ভিডিও)

আসমিরা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘আমার দুই ভাই জোনাব ও সোয়াব। তারা বিয়ে করেছে। বউ নিয়ে আলাদা থাকে। ৯ বোনের মধ্যে ২ জনের বিয়ে হয়েছে। বাকিরা বাবা-মায়ের সঙ্গেই ছিল। তারাও বাংলাদেশে আসতেছিল। কিন্তু পথের মধ্যে হঠাৎ তারা হারিয়ে গেছে।’

তিনি বলেন,‘তারা কোথায় আছে,কি করছে,জানি না। আসার পথে অনেক মানুষ মিলিটারির হাতে আটক হয়েছেন। তাদের ধরে নিয়ে গেছে মনে হয়।’  

রোহিঙ্গা এই গৃহবধূ বলেন, ‘আমরা শিরহালি সীমান্ত দিয়ে পার হয়ে বুধবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে আসছি। এই ১৩ দিন না খেয়ে হাঁটতে হয়েছে। বাচ্চা নিয়ে এখনও রাস্তায় আছি।’

রোহিঙ্গাদের পালানোর পথেও মৃত্যুফাঁদ (ভিডিও)

ঘর-বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার কারণে তিনি সঙ্গে কিছু নিয়ে আসতে পারেননি। সবাই যেদিকে হাঁটছে তিনিও সেদিকে হেঁটেছেন। প্রতিদিন রাতে সবাই জঙ্গলে একসঙ্গে থেকেছি।

তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার সেনাবাহিনী কম বয়সী পোলাদের ধরে নিয়ে যায়। আমার স্বামী আজিজুলকেও নিয়ে যেতে পারে। আমি জানি না সে কোথায় আছে।’

জোহরা খাতুন নামে এক রোহিঙ্গা নারী বলেন,  ‘আমার স্বামীর নাম আলী জোহর। তিন ছেলে ও তিন মেয়ে নিয়ে তিনি বাংলাদেশে এসেছি। স্বামী ও এক মেয়েকে খুঁজে পাচ্ছি না।’

রোহিঙ্গাদের পালানোর পথেও মৃত্যুফাঁদ (ভিডিও)

রশিদা বেগম (২৫) বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় টেকনাফের লম্বাবিল সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন। তার মা দিল বাহার ও ভাই নূর হোসেনকে খুঁজে পাচ্ছেন না তিনি। তাকে হোয়াইটক্যং এলাকায় বসে কাঁদতে দেখা যায়।

রশিদা বেগমের আহাজারি

বিলাপ করে কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, ‘আমার ভাই ও মাকে নিয়ে বাড়িতে ছিলাম। বাবা ছয় বছর আগে মারা গেছেন। ২৭ আগস্ট আমাদের বাড়িতে মিলিটারি আগুন দেয়। এরপর যে যার মতো করে পালিয়ে আসি। ভাইকে হয়তো মিলিটারি ধরে নিয়ে গেছে। তার মোবাইল বন্ধ। ভাই ও মা ছাড়া এই পৃথিবীতে তার আর কেউ নেই।’

সন্তান কোলে নিয়ে আসছেন এক নারী

রাখাইনের নাগপুরের বাসিন্দা মো.ইসলাম। তারা তিন ভাই। মো. ইয়াহিয়া, মো.ইসলাম ও মো. তাসকিন। নাগপুর গ্রামে ২৫ আগস্ট আগুন দেয় সেনাবাহিনী। এরপর তারা বাবাকে বাড়িতে রেখে পালিয়ে বাংলাদেশে আসেন। তবে ভাই ইয়াহিয়াকে এখনও খুঁজে পাচ্ছেন না। তার ভাগ্যে কী ঝুটেছে তাও তিনি জানেন না।

কক্সবাজারের ঘুমধুম এলাকায় রোহিঙ্গাদের অস্থায়ী শিবির

তিনি বলেন, ‘মিলিটারিরা সবসময় পুরুষদের টার্গেট করে হত্যা করে। আমরা দিনের আলোতে পালিয়ে থাকি পাহাড়ে। এরপর রাতের বেলা  হাঁটতে থাকি। পুরুষ দেখলেই তারা গুলি করে হত্যা করে।’

ছবি: ফোকাস বাংলা

 

 

আরই পড়ুন:

‘৯৭ বছরে এমন বর্বরতা দেখিনি’

টেকনাফের লম্বাবিল সীমান্তে রোহিঙ্গাদের স্রোত (ভিডিও)

/এআরআর/এসটি/
সম্পর্কিত
রোহিঙ্গাদের জন্য ২০ লাখ ইউরো অনুদান দিলো ফিনল্যান্ড
রোহিঙ্গাদের জন্য ৭১ কোটি ডলার সহায়তার আহ্বান
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদন‘চারপাশে ছড়িয়ে ছিল কঙ্কাল-খুলি’, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর আরাকান আর্মির হত্যাযজ্ঞ
সর্বশেষ খবর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম