রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ভারত ও চীনের সহযোগিতা চেয়েছেন বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ। সোমবার রোহিঙ্গা ইস্যুতে সংসদে আনা একটি সাধারণ প্রস্তাবের ওপর আলোচনাকালে এ সযোগিতা কামনা করে বিরোধী দলীয় নেতা। তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি ভারত ও চীন উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসবে। এই সমস্যা সমাধানে চেষ্টা করবে। আমরা সবাই মিলেমিশে এই সমস্যার সমাধান চাই। সবাই মিলে সত্যিকারভাবে উদ্যোগ নিলে এই সমস্যা সমাধানে সমস্যা হবে না।’
রওশন এরশাদ তার বক্তব্যে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে কফি আনান কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়নের পাশাপাশি জাতিসংঘের আসন্ন সম্মেলনে এ বিষয়ে সমাধান আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ‘কফি আনান কমিশনের রিপোর্ট যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজে পাওয়া যাবে। এটা বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত প্রয়োজন। জাতিসংঘের আসন্ন অধিবেশনে রোহিঙ্গা ইস্যুটি উত্থাপন করা হচ্ছে। আশা করি সেখানে যথাযথ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের ওপরে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর তাণ্ডবলীলায় নাফ নদীতে মানবতা ভেসে আসছে। স্রোতের মতো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করছে। তাদের এমনভাবে বিতাড়িত করা হচ্ছে, যেন তারা দেশটির বাসিন্দাই নয়। অতীতেও বাংলাদেশে রোহিঙ্গা এসেছে। এই বিষয়ে একটি স্থায়ী সমাধান দরকার। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। এতে সমস্যা সমাধানের পথ বেরিয়ে আসবে বলে আশা করি।’
তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের এই আসার মাঝে কিছু কিছু সন্ত্রাসী ঢুকে যেতে পারে। এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। আমরা রোহিঙ্গা বা মুসলিম হিসেবে তাদের আশ্রয় দেইনি, আশ্রয় দিয়েছি মানুষ হিসেবে। রোহিঙ্গারা আমাদের মেহমান। যতদিন থাকবে, আশ্রয় দিতে হবে। আমাদের সম্পদ ও জায়গা সীমিত। তারা মানবিক কারণে আমাদের এখানে আসছে। তবে, তাদেরকে ফিরে যেতে হবে। নির্যাতিত নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের একটি নির্দিষ্ট স্থানে রেখে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা নিতে হবে। তারা যেন সর্বত্র ছড়িয়ে না পড়ে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘অনেকে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে রাজনীতি করার সুযোগ নিতে পারে। কাউকে এই সুযোগ দেওয়া যাবে না।’
বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ‘আমরা যুদ্ধ চাই না, শান্তি চাই। আমরা ভেবে অবাক হয়ে যাই—শান্তির জন্য নোবেল পাওয়া অং সাং সু চি এত অশান্তি সৃষ্টি করতে পারে কী করে। আমার পার্টি থেকে সর্বাত্মকভাবে সমর্থন করছি। যাতে করে শান্তিপূর্ণভাবে এই সমস্যার সমাধান পাওয়া যায়। স্থায়ী একটি সমাধান আমরা খুঁজে পাই, এই লক্ষে কাজ করতে হবে। এসময় তিনি মিয়ানমার সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।’
আরও পড়তে পারেন:
রোহিঙ্গাদের যেভাবে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া যাবে
ওপারে বর্বরতা, এপারে সহযোগিতার হাজারও হাত








