ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার অন্যতম পর্ব কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১ টার দিকে মহাঅষ্টমী পূজার দিন রাজধানীর রামকৃষ্ণ মিশনসহ সারাদেশে মণ্ডপ মণ্ডপে এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়।
রামকৃষ্ণ মিশনে কুমারী মা আসনে অধিষ্ঠিত হলে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় বেলা ১১টায়। টুকটুকে লাল শাড়ি পরে আসা কুমারী মায়ের চোখে-মুখে ভীতিমিশ্রিত আনন্দের ছাপ ছিল।
শাস্ত্র মতে, মাতৃভাবে কুমারী কন্যাকে জীবন্ত প্রতিমা কল্পনা করে জগজ্জননীর উদ্দেশে শ্রদ্ধা নিবেদন করাই কুমারী পূজা। ভক্তদের মতে, এটি একাধারে ঈশ্বরের উপাসনা, মানববন্দনা আর নারীর মর্যাদার প্রতিষ্ঠা। নারীর সম্মান, মানুষের সম্মান আর ঈশ্বর আরাধনাই কুমারী পূজার অন্তর্নিহিত শিক্ষা।
রামকৃষ্ণ মিশনে কুমারীর আসল নাম রুপকথা চক্রবর্তী। শাস্ত্র মতে, এদিন তার নামকরণ করা হয় ‘মালিনী’। মালীনির বয়স ছয় বছর। সে রাজধানীর বনশ্রীতে বসবাসকারী এক ব্রাহ্মণ পরিবারের সন্তান ও প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পূজা শেষে রামকৃষ্ণ মিশনের প্রধান মহারাজ স্বামী ধ্রুবেশানন্দ কুমারী পূজা নিয়ে বলেন, ‘বৃহদ্ধর্মপুরাণের বর্ণনা অনুযায়ী দেবতাদের স্তরে প্রসন্ন হয়ে দেবী চণ্ডিকা কুমারী কন্যারূপে দেবতাদের সামনে দেখা দিয়েছিলেন। দেবীপুরাণে বিস্তারিত এ বিষয় উল্লেখ আছে। তবে অনেকে মনে করেন যে, দুর্গাপূজায় কুমারী পূজা সংযুক্ত হয়েছে তান্ত্রিক সাধনামতে।’
কুমারী পূজা দেখতে সকালে রামকৃষ্ণ মিশন জনসমুদ্রে পরিণত হয়। বিরামহীন ঢোলের আওয়াজের সঙ্গে থেমে থেমে বেজে উঠে ঘণ্টা আর কাঁসার শব্দ, আর নানা বয়সের নারীদের ভক্তিভরা উলুধ্বনি। এরই মাঝে পিতার কোলে চড়ে মণ্ডপে অধিষ্ঠিত হলেন ‘কুমারী মা’। হাজারো ভক্ত জয়োধ্বনি দিয়ে বরণ করে নেন কুমারী মাকে।
পূজা শেষে কুমারী দেবী মালিনী বলেন, ‘আমি জগৎ সংসারের জন্য আশির্বাদ করেছি। সবাই ভালো থাকবে, শান্তিতে থাকবে এ কামনা করেছি।’
এদিকে আগামীকাল শুক্রবার শারদীয় দুর্গাপূজার মহানবমী পালিত হবে। আর মাত্র একদিন পরেই মর্ত্য ছেড়ে কৈলাসে স্বামীগৃহে ফিরে যাবেন দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গা। পেছনে ফেলে যাবেন ভক্তদের চার দিনের আনন্দ-উল্লাস আর বিজয়ার অশ্রু।
আরও পড়ুন- শরণখোলায় মায়ের পূজা অনুষ্ঠিত








