আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শনিবার সকালে গণসংবর্ধনা দেয়। এজন্য রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গণভবন এলাকা পর্যন্ত সড়ক সকাল সোয়া ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত বন্ধ ছিল। এই ৪৫ মিনিট উত্তরা, বনানী ও মিরপুর এলাকার গাড়িগুলো গুলিস্তান, মতিঝিল, যাত্রাবাড়ী ও সায়েদাবাদ প্রবেশ করতে পারেনি। এতে ঢাকা মহানগরীর উত্তরে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। একই সময় নগরীর দক্ষিণের ব্যস্ততম এলাকা মতিঝিল ও গুলিস্তানে কোনও যানজট ছিল না বলে জানা গেছে। স্বাভাবিক গতিতেই গাড়ি চলাচল করছে। পল্টন, ফকিরাপুল, দৈনিক বাংলা, প্রেসক্লাব ও কদম ফোয়ারা এলাকায় কোনও সিগন্যাল ছিল না বেলা সাড়ে ১২টা নাগাদ।
শনিবার প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা দেওয়ার ঘোষণা আগেই দিয়েছিল আওয়ামী লীগের। তাই গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছাড়া এদিন সকালে কেউ বের হননি। তারপরও বনানী, উত্তরা ও মিরপুর এলাকার যারা সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে বের হয়েছেন তাদের যানজটে পড়তে হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী গণভবনে প্রবেশ করার পর পরিস্থতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে। দুপুর ১টা নাগাদ উত্তরের যানজট স্বাভাবিক হতে দেখা গেছে।
এর আগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বনানী, মহাখালী, বিজয় স্মরণী, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া ও মিরপুর এলাকায় তীব্র যানজট ছিল। পৌনে এক ঘণ্টা সড়ক বন্ধ থাকায় এসব এলাকায় গাড়ি চলতে পারেনি বলে জানান গাড়ি চালক ও যাত্রীরা। এছাড়াও কিছু এলাকায় ডাইভারসন ছিল। খামার বাড়ি, চন্দ্রিমা উদ্যান, বিমানবন্দর এলাকায় ডাইভারসন দিয়ে গাড়ি চলতে দেখা গেছে। এসময় রাস্তার দুপাশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে গাড়ি না পেয়ে সাধারণ মানুষও গাড়ির জন্য দাঁড়িয়ে থাকেন। অনেকে আবার পায়ে হেঁটেই গন্তব্যে রওনা দেন।
বনানীর চেয়ারম্যান বাড়ি থেকে হেঁটে ফার্মগেট এসেছেন অনেকেই। এমনই দুজন রাফাত ও রিয়ান। এই দুই বন্ধু বাংলা ট্রিবউনকে বলেন, ‘আমরা কোনও গাড়ি পাইনি। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চেয়ারম্যান বাড়ি থেকে রওনা দিয়েছি। হেঁটে হেঁটে ফার্মগেট যাচ্ছি।’ এমনভাবে অনেককেই হেঁটে আসতে দেখা গেছে। উত্তরা, আব্দুল্লাহপুর, টঙ্গী ও গাজীপুর থেকেও গাড়ি প্রবেশ করতে পারেনি সকালে। ফলে ওইসব এলাকায় লোকজন যানজটে পড়েছেন বলে ট্রাফিক সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক (উত্তরের) উপ-কমিশনার প্রবীর কুমার রায় বেলা সোয়া ১টার দিকে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর মুভমেন্টের সময় অল্প কিছু সময় সড়ক বন্ধ ছিল। এটা সবসময় হয়। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে, গাড়ি চলছে। আজকে শনিবার তেমন কোনও চাপ নেই।’
মহানগরীর উত্তরে যেমন যানজট ছিল, দক্ষিণে ছিল উল্টো চিত্র। গাজীপুর ও মিরপুর এলাকা থেকে সকালে গাড়ির চাপ কম থাকায় তাই দক্ষিণে সড়কে ছিল গণপরিবহন সংকট। মতিঝিলের ব্যাংক ও অফিস পাড়া বন্ধ থাকায় এখানকার মানুষ তেমন ভোগান্তিতে পড়েনি। গুলিস্তানেও দেখা গেছে তুলনামূলক ফাঁকা।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মধ্যে পড়েছে ডিএমপির পূর্ব ও দক্ষিণের দুইটি বিভাগ। ডিএমপির ট্রাফিকের দক্ষিণের এলাকাগুলো হলো, নিউমার্কেট, রমনা, শাহবাগ, বাংলামোটর। এই এলাকাতেও যানজট ছিল সকালে। শাহবাগ ও নিউমার্কেট মিরপুর সড়কে তীব্র যানজট ছিল। সায়েন্সল্যাব এলাকাতেও গাড়ির গতি ছিল কম।
ডিএমপির ট্রাফিক দক্ষিণের উপ-কমিশনার (ডিসি) রিফাত রহমান শামীম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সকালে স্বাভাবকি কারণেই কিছু সড়কে গাড়ির চাপ ছিল। তবে প্রধানমন্ত্রীর মুভমেন্টের পর গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘শনিবার এমনিতেও গাড়ির চাপ কম থাকে। আজকে মানুষের ভোগান্তি হবে না।’
তবে রাজধানীর দক্ষিণের মতিঝিল ও গুলশান এলাকা ছিল যানজটমুক্ত। পথচারী, বাসযাত্রী ও পুলিশ জানিয়েছে, মতিঝিল এলাকায় আজকে ছুটি থাকায় এই এলাকায় শুক্র, শনিবার যানজট মুক্ত থাকে প্রতি সপ্তাহেই। আজকেও তাই হয়েছে। এছাড়াও রাজধানীর উত্তরা থেকে সকালে গাড়ি প্রবেশ করতে না পারায়ও ফাঁকা রয়েছে সড়ক।
ডিএমপির ট্রাফিকের পূর্ব বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি)মইনুল ইসলাম বাংলা ট্রিবউনকে বলেন, ‘আমার এলাকায় আজকে কোনও যানজট নেই। যান চলাচল স্বাভাবিক।’
ছবি: সাজ্জাদ হোসেন।








