রাজধানীর আসাদ গেট এলাকায় আড়ং সিগন্যালে সকাল থেকে দেওয়া ডাইভারশনের কারণে তীব্র যানজটে নাকাল নগরবাসী। রবিবার (৮ অক্টোবর) সপ্তাহের প্রথম দিনে শ্যামলী, মোহম্মদপুর থেকে অফিসের পথে বের হওয়া নগরবাসীর কলাবাগান, ধানমন্ডি, নিউমার্কেট এলাকা পার হতে ঘণ্টা দুই সময় লাগছে। ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাস্তায় জ্যাম থাকার কারণে এবং নিউ মার্কেট এলাকায় শিক্ষার্থীদের জমায়েতের কারণে আড়ং সিগন্যালে ডাইভারশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সকাল সাড়ে ১০টায় শ্যামলী থেকে বের হন রাশেদুল হাসান। বেলা ১২টার কিছু পরে আড়ং সিগন্যালে পৌঁছানোর পর তার গাড়িকে কলাবাগানের দিকে না যেতে দিয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার অফিস কলাবাগানে। আমি মানিক মিয়া দিয়ে সেখানে কিভাবে যাবো? এইটুকু আসতেই আমার দেড় ঘণ্টা পার হয়ে গেছে। এখন ফার্মগেট দিয়ে ঘুরে আমি কতক্ষণে অফিসে যাবো? বাধ্য হয়ে বাসায় ফিরে যেতে হচ্ছে আমাকে।’
ফল প্রকাশসহ পাঁচ দফা দাবিতে রবিবার সকাল থেকে নীলক্ষেত মোড়ে রাস্তা অবরোধ করে সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে শুরু করে রাজধানীর সাত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের শিক্ষার্থীরা। এর প্রভাব পড়ে প্রথমে মিরপুর সড়কে। এরপর তা একদিকে নিউমার্কেট, ধানমন্ডি, শ্যামলী, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, গাবতলী অন্যদিকে ফার্মগেট, কাঁটাবন হয়ে ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের সবগুলো সড়কে। ক্রমেই তীব্র ভোগান্তির কবলে পড়তে হয় তেজগাঁও থেকে শুরু করে নিউমার্কেট ও শ্যামলী থেকে সায়েন্সল্যাবের গোটা এলাকাতেই।
তীব্র এই যানজটের অন্যতম প্রধান কারণ আসাদ গেট থেকে সোজা মিরপুর রোডে গাড়ি ঢুকতে না দিয়ে ডাইভারশন করে দেওয়া। এসময় কলাবাগান, ধানমন্ডি থেকে আসা সব গাড়িকেই ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে মানিক মিয়া এভিনিউয়ে। এতে এই এলাকায় গাড়ির চাপ বেড়ে যাওয়ায় খামারবাড়ি হয়ে কারওয়ানবাজার পৌঁছাতেও ঘণ্টাদুয়েক সময় লেগে যাচ্ছে।
সায়েমা রেনু বেলা সাড়ে ১২টার সময় বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি লালমাটিয়া থেকে খামারবাড়ি এসেছি দেড় ঘণ্টায়। এখানে একজায়গায় দাড়িয়ে আছি ৪০ মিনিট হলো। কী হয়েছে, সে বিষয়ে কেউ কিছুই বলতে পারছেন না। যানজট তো আমাদের রোজকার বিষয়। কিন্তু আজকের মতো হয়রানি সচরাচর ঘটে না।’ তিনি বলেন, ‘আগে থেকে ঘোষণা থাকলে এ ধরনের সমস্যা হতো না। এখন অফিসে পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় যে জবাবদিহিতে পড়তে হবে, সেটা তো কাম্য না।’
ডাইভারশন ও রাস্তা বন্ধের বিষয়ে জানা না থাকার কারণেই এমন অনাকাঙ্ক্ষিত হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছে বলে জানালেন আরিফুল ইসলাম। ল্যাব এইডে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার জন্য সকাল সাড়ে ৯টায় ইকবাল রোড থেকে বের হন তিনি। আরিফুল বলেন, ‘মায়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে সকালে যাওয়ার কথা ছিল ল্যাব এইডে। সেজন্য অফিস থেকে ছুটিও নিয়েছি। ল্যাব এইড কখন পৌঁছাব, সেটাই বলতে পারছি না। তিন মিনিটের রাস্তা একঘণ্টায় পার হয়ে আড়ং সিগন্যালে পৌঁছাতেই গাড়ি ঘুরিয়ে দিলো। এখন যে আরও কতক্ষণ লাগবে, সেটা তো বুঝতেই পারছি না।’ আরিফুল আরও বলেন, ‘রোগী নিয়ে যাচ্ছি, এর মধ্যে রাস্তার এই অবস্থা। বিকল্প কিছু করারও সুযোগ নেই। সামনে গাড়ি আর গাড়ি।’
ধানমন্ডিতে কর্মরত একজন সহকারী পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রাস্তায় খনাখন্দের কারণ কিছু জ্যাম আছে। তাছাড়া নিউমার্কেট এলাকায় শিক্ষার্থীদের জমায়েতের কারণে জ্যাম তৈরি হয়েছে। এ কারণে আমরা আড়ং সিগন্যালে ডাইভারশনের ব্যবস্থা করেছি।’
আরও পড়ুন-
ভবন ভাঙতে সাত মাস সময় পেলো বিজিএমইএ
শৃঙ্খলাবিধির গেজেট: সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চায় আপিল বিভাগ








