সংসদ সদস্যদের সুপারিশে প্রাপ্ত টিসিবি’র (ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ) ডিলারের তালিকা চেয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। আগামী বৈঠকে এ তালিকা উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। এসব ডিলার নিয়োগ টিসিবি’র নিয়ম মেনে হয়নি, এমন অভিযোগে তাদের তালিকা চাওয়া হয়েছে বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।
কমিটির সভাপতি মো. তাজুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কমিটির সদস্য নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, এনামুল হক, ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল, আ.ক.ম বাহাউদ্দিন, মো. ছানোয়ার হোসেন, মোহাম্মদ হাছান ইমাম খাঁন এবং লায়লা আরজুমান বানু অংশগ্রহণ করেন।
জানা গেছে, গত ৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে টিসিবি’র ডিলার নিয়ে আলোচনা হয়। কমিটির সদস্য মোতাহার হোসেন ওই আলোচনার সূত্রপাত করেন। তিনি বলেন, ‘টিসিবি’র জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে যেসব ডিলার রয়েছে তারা অনেকেই নিষ্ক্রিয়। অনেকে ডিলারশিপের আবেদন করেও প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। অনেকে লাভ কম দেখে টিসিবি থেকে পণ্য নিতে চান না। এগুলো যাচাই-বাছাই করে যেসব এলাকায় ডিলার নেই, সেখানে নতুন ডিলার নিয়োগ করা দরকার। বিষয়টির তথ্য নেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ করে তারা এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে। জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকেও টিসিবি’র ডিলার নিয়ে আলোচনা হয়। অনেকে টিসিবি’র নিয়ম না মেনে সংসদ সদস্যদের সুপারিশে ডিলারশিপ পেয়েছেন বলে আলোচনা উঠে আসে। পরে সংসদ সদস্যদের সুপারিশে কারা কারা ডিলারশিপ পেয়েছেন, তার তালিকা কমিটিকে জমা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
ডিলারদের তালিকা চাওয়া প্রসঙ্গে কমিটির সভাপতি আ ক ম বাহাউদ্দিন (বাহার) বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তিনিই এই তালিকার বিষয়টি কমিটিতে উত্থাপন করেছেন। তবে, নিয়ম মেনে হওয়া না হওয়ার বিষয় নয়। কারা পেয়েছে তা যাচাই করার জন্যই এই তালিকা চাওয়া হয়েছে।’
টিসিবি’র বর্তমান ডিলার সংখ্যা ২ হাজার ৮১৬জন বলে কমিটিতে জানানো হয়।
এদিকে, বৈঠকে বিদেশে যেসব আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় বাংলাদেশ অংশ নেবে, তার প্রতিটিতে দু’জন করে সংসদ সদস্যের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে চলতি অর্থ বছরে মেলার ক্যালেন্ডার চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আ ক ম বাহার বলেন, ‘সংসদ সদস্যরা কোনও মেলায় গেলে তারা সুন্দরভাবে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন। এতে করে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়। দেশের রফতানির সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তাছাড়া, এমপিরা যাচ্ছেন শুনে ওই দেশে অবস্থিত আমাদের মিশন ও মন্ত্রণালয় আয়োজনটা সুন্দর করে। এজন্য আমরা বলেছি, প্রতিটি মেলায় যেন দু’জন এমপির অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা হয়।’
এ বিষয়ে সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশের বাইরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মেলায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মান বজায় রাখা এবং মেলায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে যথাসময়ে সদস্যদের ভিসার ব্যবস্থা করার সুপারিশ করা হয়।
এদিকে আগামী বৈঠকে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার সব আয়-ব্যয়ের হিসাব সংসদীয় কমিটিকে অবহিত করার সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে জানানো হয় যে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ঢাকা মহানগরীতে ১৪ টি বাজার মনিটরিং টিম নিয়োজিত রয়েছে। প্রতিদিন দু’টি করে টিম মোট ৩/৪ টি বাজার পরিদর্শন করে থাকে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর আওতায় অধিদফতর থেকে মহানগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বাজার মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।








