দুর্নীতির দুই মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনের বক্তব্য আজ বৃহস্পতিবারও (২৬ অক্টোবর) শেষ করতে পারেননি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। গত ১৯ অক্টোবর প্রথম দফায় আত্মপক্ষ সমর্থনের বক্তব্য দেন তিনি। আজও প্রায় এক ঘণ্টা কথা বলেন। এরপরও বক্তব্য শেষ করতে পারেননি বিএনপি নেত্রী। আদালত আগামী ২ নভেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছেন। ওইদিন খালেদা জিয়াকে বক্তব্য শেষ করতে হবে।
এদিকে আদালত থেকে বের হয়ে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, ‘খালেদা জিয়ার বক্তব্য মামলা সংশ্লিষ্ট না। উনার বক্তব্য রাজনৈতিক।'
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৬ অক্টোবর) বেলা ১১টা ৫৭ মিনিটে খালেদা জিয়া পুরান ঢাকার বকশিবাজারে ঢাকার অস্থায়ী পাঁচ নম্বর আদালতে পৌঁছান। সোয়া ১২টা থেকে সোয়া ১টা পর্যন্ত তিনি বক্তব্য দেন। সোয়া ১টার দিকে বিচারক মো. আখতারুজ্জামান মামলার পরবর্তী তারিখ ২ নভেম্বর নির্ধারণ করে আদালত মুলতবি ঘোষণা করেন। খালেদা জিয়ার পক্ষে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ও দুদকের পক্ষে মোশাররফ হোসেন কাজল শুনানি করেন।
প্রায় তিন মাস লন্ডনে অবস্থান করার পর গত ১৮ অক্টোবর দেশে ফেরেন খালেদা জিয়া। ঢাকায় ফেরার পরদিনই ১৯ অক্টোবর তিনি আদালতে হাজিরা দেন। দুর্নীতির দুই মামলায় গত ১২ অক্টোবর খালেদা জিয়ার জামিন বাতিল করে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। তবে খালেদা জিয়া আত্মসমর্পণের পর আদালত তার জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেন। আদালতের অনুমতি ছাড়া খালেদা বিদেশ যেতে পারবেন না বলেও বিচারক আদেশ দেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১১ সালের ৮ আগস্ট খালেদা জিয়াসহ চার জনের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলাটি দায়ের করে দুদক। এ মামলায় ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। আর এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে দুদক জিয়া অরফানেজ মামলাটি দায়ের করে। ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় এই মামলাটি দায়ের করা হয়।
অভিযোগপত্রে খালেদা জিয়া, তার বড় ছেলে তারেক রহমান, কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে আসামি করা হয়।
আরও পড়ুন- বিচার বিভাগের হাত-পা বাঁধা, তাই ন্যায়বিচার নিয়ে শঙ্কিত আমিও: খালেদা








