রাজধানীর ফার্মগেটের খামারবাড়ীর ল্যাবরেটরি ভবন ভাঙার কাজ বন্ধে ৬ দফা দাবিসহ মানববন্ধন করেছে ‘পরিবেশ বাচাঁও আন্দোলন’সহ কয়েকটি সংগঠন। এসব সংগঠনের নেতারা বলেন, ঐতিহ্যকে ধ্বংস নয়, সংরক্ষণ করতে হবে। এ সময় তারা আরও দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। শনিবার (২৮ অক্টোবর) খামাবাড়ীর কৃষি ল্যাবরেটরির সামনে আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে এই দাবি জানানো হয়।
আন্দোলনকারীদের ছয় দফা দাবি হলো, ল্যাবরেটরি ভবন ভাঙার কাজ অবিলম্বে বন্ধ করা, ভবনটিকে আগের আদলে ফিরিয়ে নেওয়াসহ সংরক্ষণ করে এটিকে জাদুঘরে রূপান্তর করা, ভাঙার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া, অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলো সংরক্ষণ, ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ভবনগুলোর পূর্ণাঙ্গ তালিকা চূড়ান্ত করা এবং মহানগরীতে সমন্বিত কার্যক্রমের গ্রহণের মাধ্যমে সব ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া।
মানববন্ধনে পরিবেশ বাচাঁও আন্দোলনের চেয়ারম্যান আবু নাসের বলেন, ‘এটি একটি পুরনো ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা। বাংলাদেশের কৃষি গবেষণার প্রথম ল্যাবরেটরি। এটি খামার বাড়ির একমাত্র ঐতিহ্য। এই ভবন ভেঙে ফেলা হলে অনেক গাছও কাটা হবে। এর ফলে পরিবেশটাও নষ্ট হয়ে যাবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটা রক্ষায় আমরা শুধু পরিবেশবাদীরাই না, বিভিন্ন সমাজকর্মীরা, নগর উন্নয়নকর্মীরাও এগিয়ে এসেছেন।’
মানববন্ধনে স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন বলেন, ‘এই ধরনের স্থাপত্যগুলো সংরক্ষণের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়, এ জাতি দেউলিয়া জাতি নয়। এ জাতি একটি ধারাবাহিকতার মাধ্যমে এ অবস্থায় পৌঁছেছে।’ তিনি বলেন, ‘‘আজ যদি আমরা জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ থেকে তার ব্রিটিশ আমলের কর্মকাণ্ড মুছে ফেলি, তাহলে বঙ্গবন্ধুর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে। অর্থাৎ ইতিহাস একজন মানুষকে তার সৃষ্টি থেকে শেষ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার পথ দেখায়। পরবর্তী প্রজন্মকে জানান দেয়, কিভাবে একটি জাতি নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য কোন জায়গায় কী করতে হয়।’
বাঙালির জাতিসত্তা ভুইফোঁড়ের মতো জন্ম নেয়নি উল্লেখ করে মোবাশ্বের হোসেন বলেন, ‘এ ইতিহাস আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে জানাতে হবে। এ কারণেই এসব ঐতিহ্য আমাদের সংক্ষরণ করতে হবে।’
স্থপতি মোস্তফা খালিদ পলাশ বলেন, ‘এসব ঐতিহ্য রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব।’ তিনি বলেন, ‘এসব ঐতিহ্য ভাঙার আগে জনগণের অভিমত নেওয়া উচিত ছিল সরকারের। কারণ জনগণ হচ্ছে এসবের মালিক। সরকার তার রক্ষক।’
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিটের ডিন নিসার হোসেন, আরবান স্ট্রাডি গ্রুপের প্রধান নির্বাহী তাইমুর ইসলাম, শিল্পী ওয়াকিলুর রহমান প্রমুখ।
দুই দিনের কর্মসূচি
রবিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ১১ টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে খামারবাড়ী ল্যাবরেটরি বিল্ডিংয়ের সামনে চিত্রাঙ্কন। দুপুর ১ টা থেকে ২ টায় সব সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপত্য বিভাগের ছাত্র-শিক্ষকদের অংশগ্রহণে স্ব-স্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে অবস্থান। সোমবার (৩০ অক্টোবর) বিকাল ৩ টায় খামারবাড়ী এলাকায় গণ-সমাবেশ।
প্রসঙ্গত, আন্দোলনরত সংগঠনের নেতারা জানান, গত বৃহস্পতিবার উচ্চ আদালতের একটি বেঞ্চ এ ভবনটি না ভাঙতে মৌখিকভাবে নির্দেশনা দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশনার পরও ভবন ভাঙা হচ্ছে।
এদিকে, শুক্রবার সংশ্লিষ্ট আদালতের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এসএম মনিরুজ্জামান এই প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের বলেন, ‘খামারবাড়ীর ওই ভবন ভাঙার বিষয়ে পত্রিকার কাটিং দেওয়ার পর আদালত বলেছেন, আগামী মঙ্গলবার বিষয়টি শুনবেন। এর আগে এ বিষয়ে একটি আবেদন জমা দিতেও বলেছেন। এর মধ্যে ভবনটি ভাঙা বন্ধ রাখতে সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে দিতে বলেছেন আদালত।
উল্লেখ্য, ১৯০৯ সালে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষিক্ষেত্রে উন্নতি লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয় খামারবাড়ী ল্যাবরেটরি ভবন।








