জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে আটটি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। এসব প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ হাজার ২২১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকার যোগান দেবে তিন হাজার ৭৬৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। প্রকল্প সাহায্য হিসেবে পাওয়া যাবে ৫২৯ কোটি ২৯ লাখ টাকা। এছাড়া, বাকি ১০ হাজার ৯২৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা যোগান দেওয়া হবে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে। এরমধ্যে নতুন প্রকল্প ৬টি ও পুরনো প্রকল্প দুটি।
মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ১১৮তম ও চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের অষ্টম একনেক বৈঠকে এসব প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
তিনি জানান, বৈঠকে রাজধানীর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ হাজার ৯০২ কোটি ২১ লাখ টাকা। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও গৃহায়ণ মন্ত্রণালয় এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। এটি সরকারের প্রথম সংশোধনী প্রকল্প। জামালপুর-কালিবাড়ি-সরিষাবাড়ি সড়ক প্রশস্তকরণ ও মজবুতিকরণ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয় বৈঠকে। এজন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২১৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং সড়ক ও জনপথ অধিদফতর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এটি সরকারের নতুন প্রকল্প।
বৈঠকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ ও অপসারণ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। এজন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৯১ কোটি ১৮ লাখ টাকা। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এটিও সরকারের নতুন প্রকল্প। ১২০ কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকার অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পও অনুমোদন দিয়েছে একনেক। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এটিও সরকারের নতুন প্রকল্প।
একনেকে মাধ্যমিক শিক্ষা উপবৃত্তি (দ্বিতীয় পর্যায়) প্রকল্পটিও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এজন্য ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৩৩০ কোটি ১৫ লাখ টাকা। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ এবং মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এটি সরকারের প্রথম সংশোধনী প্রকল্প। এক হাজার ৭৩০ কোটি টাকা ব্যয় ধরে দেশব্যাপী গ্রামীণ বাজার অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন একটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে একনেক। এটি বাস্তবায়ন করবে স্থানীয় সরকার বিভাগ ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর।
বৈঠকে বাগেরহাট-বরগুনা ১৩২ কেভি সঞ্চালন লাইন এবং বরগুনা ১৩২/৩৩ কেভি উপকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এজন্য ব্যয় হবে ১৪৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা। বিদ্যুৎ বিভাগ ও পিডিসিবি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এটিও সরকারের নতুন প্রকল্প। বাংলাদেশ আঞ্চলিক যোগাযোগ প্রকল্প-১: ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো বাস্তবায়ন এবং কাস্টমস আধুনিকায়ন জোরদারকরণ প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে একনেকে। নতুন এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৮৫ কোটি ৩৯ কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।








