জাকাত ও ওয়াকফের মতো জনকল্যাণমূলক কাজে এগিয়ে আসতে বিত্তশালীদের প্রতি হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। তিনি বলেন, ‘এসব কার্যক্রম লোকদের দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দিতে সরকারের পক্ষে সহায়ক হবে। স্বল্প সুবিধাপ্রাপ্ত লোকদের দারিদ্র্যের চক্র থেকে বের করে আনতে আমাদের এগিয়ে আসতে হবে। দারিদ্র্য নির্মূলকরণ, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে ওয়াকফের সম্পদ সরকারের কাজে সহায়ক হতে পারে।’ শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে একটি আন্তর্জাতিক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই আহ্বান জানান।
ইসলামিক রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড (আইবিবিএল) ও সেন্টার ফর জাকাত ম্যানেজমেন্ট যৌথভাবে দু’দিনব্যাপী ‘রিভাইভাল অব ওয়াকফ ফর সোসিও ইকনোমিক ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক এই কর্মশালার আয়োজন করে। আইবিবিএল-এর চেয়ারম্যান আরাস্তু খান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
কয়েকটি মুসলিম দেশের ওয়াকফ সম্পদের সব প্রাতিষ্ঠানিকীকরণে প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘যদিও বাংলাদেশে ওয়াকফ সম্পদ নিজস্ব আইন ও নিয়ম দ্বারা পরিচালিত হয়, তবু এর সংস্কার ও আধুনিকায়ন প্রয়োজন।’ ওয়াকফের ভূমিকা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এই দাতব্য প্রতিষ্ঠানটি রাজস্ব আয়ের অন্যতম বড় উৎস হিসেবে ভূমিকা পালন করে এবং শিক্ষার উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা, দারিদ্র্য দূরীকরণ ও সমাজের কল্যাণে মুসলিম ইতিহাসের স্বর্ণযুগে বিশাল অবদান রেখেছে।’
ভাষণের শুরুতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘১৯৭১ সালে রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণকে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যের প্রামাণ্যচিত্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ায় আমরা গর্ববোধ করি।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, ইসলামিক গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র অর্থনীতিবিদ ড. খলিফা মোহাম্মদ আলী, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ অর্লিন্স ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ড. কবির হোসেন অন্যান্যের মধ্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ, ব্রুনাই, ইন্দোনেশিয়া, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, নিউজিল্যান্ড, নাইজেরিয়া, থাইল্যান্ড, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা কর্মশালায় অংশ নেন। রবিবার এ কর্মশালা শেষ হবে। কর্মশালায় গবেষকরা ২৮টি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করবেন। সূত্র: বাসস








