রোহিঙ্গা ইস্যুকে কেন্দ্র করে আগামী সপ্তাহে পাঁচ দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ঢাকায় আসছেন। তাদের মধ্যে তিনজনের রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনে কক্সবাজার যাওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া, দুজনের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলীর বৈঠক হতে পারে।
আগামী ২০ ও ২১ নভেম্বর মিয়ানমারে অনুষ্ঠেয় আসেম সম্মেলনের আগে তারা বাংলাদেশে এ সফরে আসছেন। তাদের মধ্যে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই, জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিগমার গ্যাব্রিয়েল ও সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারগট ওয়ালস্টার ১৮ নভেম্বর এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের ফেদেরিকো মঘেরিনি ও জাপানের পররাষ্ট্রন্ত্রী তারো কোনো ১৯ নভেম্বর ঢাকায় আসবেন।
তাদের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জার্মানি ও সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনে কক্সবাজার যেতে পারেন বলে জানা গেছে। সরকারের একজন কর্মকর্তা বলেন, চীন ও জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলীর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করার সম্ভাবনা রয়েছে। পরে মাহমুদ আলীসহ সফরকারী পাঁচ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকা থেকে আসেম সম্মেলনে যোগ দিতে মিয়ানমার যাবেন।
ওই কর্মকর্তা বলেন, আমরা সবার সঙ্গে যোগাযাগ রাখছি। বন্ধু রাষ্ট্রগুলোকে অনুরোধ করেছি তারা যেন আসেম সম্মেলনে বিষয়টি জোরালোভাবে তোলে। তিনি আরও বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো আসেম সম্মেলনকে মাথায় রেখে রোহিঙ্গা ইস্যুতে কোনও অবস্থান নেওয়া যায় কিনা সেটি বিবেচনা করছে।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে ইউরোপের দেশগুলো শুরু থেকেই সোচ্চার রয়েছে। বাংলাদেশকে রাজনৈতিক সমর্থন দেওয়ার পাশাপাশি তারা সমস্যার সমাধানে মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগ করছে।
জাতিসংঘে আলোচনা
রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘের দুটি সংস্থায় আলোচনা হবে। এরমধ্যে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের থার্ড কমিটিতে ১৪ নভেম্বর মিয়ানমারের নিন্দা জানিয়ে একটি প্রস্তাব ভোটাভুটিতে দেওয়া হবে। গত সপ্তাহে ঢাকায় অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের (সিপিএ) সম্মেলনে বাংলাদেশ খোলাখুলিভাবে ওই নিন্দা প্রস্তাবের পক্ষে প্রচারণা চালায়।
এছাড়া, জেনেভায় মানবাধিকার কাউন্সিলে আগামী ৫ ডিসেম্বর শুধুমাত্র রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আলোচনার জন্য একটি বিশেষ সেশন আহ্বান করা হয়েছে। উভয় ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পেছন থেকে কাজ করছে। এ বিষয়ে সরকারের একজন কর্মকর্তা বলেন, ২০১৫ সালের আগ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ফোরামে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে যতগুলো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল তার প্রতিটির বিরোধিতা করেছে বাংলাদেশ। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ তার অবস্থান সম্পূর্ণ পরিবর্তন করেছে এবং মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা লাভের চেষ্টা করছে।
১৯৭৮, ১৯৯২ এবং সর্বশেষ ২০১৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত দশ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্বিচার হামলার ফলে ২৫ আগস্ট থেকে ছয় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। এছাড়া, গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত প্রায় ৯০ হাজার এবং তারও আগে প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। /এসএসজেড/এএম/








