‘যেখানেই গণহত্যা সেখানেই প্রতিরোধ’ নীতিতে যাওয়ার আহ্বান

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২৭ নভেম্বর ২০১৭, ০৪:৫১আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০১৭, ০৪:৫৩

সেমিনারে বক্তারা (ছবি: বাংলা ট্রিবিউন) ১৯৭১ সালের গণহত্যাকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি আজও। এ কারণে বিশ্বে একের পর এক গণহত্যা অব্যাহত রয়েছে বলে মনে করেন দেশ-বিদেশের বিশিষ্টজনেরা। তাই ‘যেখানেই গণহত্যা সেখানেই প্রতিরোধ’— আন্তর্জাতিকভাবে এমন নীতিতে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। রবিবার (২৬ নভেম্বর) ঢাকার বাংলা একাডেমিতে দুই দিনের এক আন্তর্জাতিক সেমিনারের সমাপনীতে বক্তারা এসব কথা বলেন। এর শিরোনাম ছিল ‘১৯৭১: গণহত্যা-নির্যাতন ও মুক্তিযুদ্ধ’।

সেমিনারের শেষ দিনে অংশ নেন পাঁচ দেশের মুক্তিযুদ্ধ ও গণহত্যা বিষয়ক আট জন গবেষক আর বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা দুই শতাধিক প্রতিনিধি। এর আয়োজন করে ১৯৭১: গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর ট্রাস্ট এবং গণহত্যা-নির্যাতন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষণা কেন্দ্র।

দ্বিতীয় দিনের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির। তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে নৃশংস গণহত্যার বিচার এখন সময়ের দাবি। এ বিচার পেতে হলে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও বৈশ্বিক সহযোগিতা। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ছাড়া এ হত্যাযজ্ঞে জড়িত পাকিস্তানি রাজাকার ও তাদের দোসরদের বিচারের আওতায় আনা সম্ভব হবে না।’

পাকিস্তানি দোসর জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানান ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি। আর্মেনিয়া, রুয়ান্ডাসহ আরও কয়েকটি দেশ গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে উল্লেখ করেছেন তিনি। তার কথায়, ‘বাংলাদেশে গণহত্যার স্বীকৃতির জন্য সর্বস্তর থেকে জোর দাবি তুলতে হবে। এছাড়া পৃথিবীর যেখানেই গণহত্যা হবে সেখানেই প্রতিবাদ তুলতে হবে।’

পাকিস্তান এখনও গণহত্যার বিচারের বিরুদ্ধে বিবৃতি দিচ্ছে উল্লেখ করে এর সমালোচনা করেন ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন। একাত্তরের শহীদদের হত্যাকারী চক্রের বিচার করার দাবি তুলেছেন তিনি। তার ভাষ্য, ‘গণহত্যার সঙ্গে জড়িত বিএনপি-জামায়াতের বিচার হওয়া উচিত। এ বিচার পাওয়া আমাদের শহীদদের অধিকার।’

মার্কিন সিনেটের ফ্রাঙ্ক চার্চের সহযোগী টমাস এ ডাইন সেমিনারে বলেন, ‘১৯৭১ সালে বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যার তথ্যপ্রমাণের তেমন কোনও প্রয়োজন নেই। কারণ গণহত্যা হয়েছে এটা প্রতিষ্ঠিত। তবে স্বীকৃত নয়। তাই এখন স্বীকৃতি দরকার। সেই স্বীকৃতি পেতে হলে যেখানেই গণহত্যা হবে সেখানেই প্রতিবাদ তুলতে হবে।’

সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন বিচারপতি শামছুদ্দিন আহমেদ মানিক, কম্বোডিয়া থেকে আসা ম্যান সোকিয়ান, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও ভারতের ন্যাশনাল রিসার্চ প্রফেসর জয়ন্ত কুমার রায়, যুক্তরাজ্য থেকে আসা জুলিয়ান ফ্রান্সিস প্রমুখ। দিন শেষে অনুষ্ঠিত হয় ইতিহাস সম্মিলনির চতুর্থ বার্ষিক সম্মেলন।

১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী, রাজাকার ও আলবদররা নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর নির্বিচারে ইতিহাসের সবচেয়ে কলঙ্কিত হত্যাযজ্ঞ চালায়। এই গণহত্যার কারণে স্বজন হারিয়েছে হাজার হাজার পরিবার।

/আরএআর/জেএইচ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম