৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে সামিট পাওয়ারের সঙ্গে চুক্তি করেছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। গাজীপুরের কড্ডায় কেন্দ্রটি স্থাপন করা হবে। রবিবার (১০ ডিসেম্বর) বিকালে রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এবং সামিট পাওয়ার কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিটি সই হয়।
বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিতে পিডিবির সচিব মিনা মাসুদউজ্জামান এবং সামিট পাওয়ার কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মোজাম্মেল হোসাইন সই করেন। অন্যদিকে, সরকারের সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়ন চুক্তিতে বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্ম সচিব (উন্নয়ন) শেখ ফয়জুল আমীন এবং গ্রিডলাইন নির্মাণ চুক্তিতে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির সচিব আশরাফ হোসাইন সামিটের সঙ্গে আলাদা আলাদা চুক্তিতে সই করেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, কেন্দ্রটি থেকে সরকার প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ কিনবে ৮.৩৪ টাকা দরে। আগামী ৯ মাসের মধ্যের মধ্যে কেন্দ্রটির নির্মাণ কাজ শেষ হবে। ২০১৮ সালের ৯ মে কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা রয়েছে। ফার্নেস তেল দিয়ে এই কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে, চুক্তি অনুযায়ী ১৫ বছর এখান থেকে বিদ্যুৎ কিনবে পিডিবি।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি চাহিদা পূরণে দেশিয় প্রতিষ্ঠানগুলোর আরও অবদান রাখার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি খাতেরও সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে যেকোনও পরিস্থিতি মোকাবিলা করার। ৩৬টি উপজেলা শতভাগ বিদ্যুতায়ন করা হয়েছে, ৫৬টি অপেক্ষমান। এভাবেই ডিসেম্বর ২০১৮ এর মধ্যে ৪৬০টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন করে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া হবে।’
বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মাহবুবুল আলম বলেন, ‘বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়নে এগিয়ে চলেছে। তবে এখনও বিদ্যুতের কিছুটা সমস্যা রয়েছে। তবে খুব শিগগিরই বেশ কিছু বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে আসবে। এতে আগামী গ্রীষ্মে বিদ্যুতের কোনও ঘাটতিই থাকবে না।’
পিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী খালিদ মাহমুদ বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য বিদ্যুতের গুরুত্ব অপরিসীম। এই বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি কোম্পানিগুলোও এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।’
সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজিজ খান বলেন, ‘বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। এ কেন্দ্র স্থাপনে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও ইঞ্জিন ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যবহার করা হচ্ছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। আগামী নয় মাসের মধ্যে কেন্দ্রটি উৎপাদনে আসবে।’
এদিকে, বিদ্যুৎ বিভাগ জানায় বর্তমানে তেলভিত্তিক দুই হাজার ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এর সঙ্গে নতুন করে আরও দুই থেকে আড়াই হাজার মেগাওয়াট তরল জ্বালানি ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এই বিদ্যুতের দাম গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বিদ্যুতের তুলনায় অনেক বেশি।







