দায়িত্বে অবহেলা করায় পটুয়াখালীয় সেই ভুয়া ডাক্তার অঞ্জুন চক্রবর্তী ওরফে রাজন দাসকে ৫ লাখ এবং ক্লিনিকের মালিককে ৪ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে এই ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধ করতে বলা হয়েছে।
পাশাপাশি টাকা পরিশোধের বিষয়ে অগ্রগতি প্রতিবেদন আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি আদালতে দাখিল করে একইদিন মামলার পরবর্তী আদেশের দিন ধার্য করেছেন আদালত।
বুধবার বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি একেএম জহিরুল হকের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
আদালতে পটুয়াখালীর সিভিল সার্জনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী শামসুদ্দিন বাবুল। ভিকটিম মাকসুদা বেগমের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার ইমরান এ সিদ্দিকী। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শশাঙ্ক শেখর সরকার।
ব্যারিস্টার ইমরান বলেন, ‘আদালত আজ তার আদেশে অভিযুক্ত ভুয়া ডাক্তার ও ক্লিনিক মালিককে ৯ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া আগামী মাসে মাকসুদা বেগমের আরেকটি অপারেশনের খরচও সংশ্লষ্টদের পরিশোধ করতে নির্দেশ দিয়েছেন।’
একটি জাতীয় দৈনিকে গত ২২ জুলাই ‘সাড়ে তিন মাস পর পেট থেকে বের হল গজ!’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শহিদ উল্লা আদালতের নজরে আনার পর রুলসহ হাইকোর্ট আদেশ দেন। ২৩ জুলাই পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ও বরিশাল মেডিক্যালের গাইনি বিভাগের প্রধানসহ তিনজনকে তলব করেন হাইকোর্ট। এ ছাড়া পটুয়াখালীর বাউফলের নিরাময় ক্লিনিকের মালিককে হাজির হতে বলা হয়।
এরপর ওই ডাক্তারের লাইসেন্স ভুয়া প্রমাণিত হওয়ার পর গত ৬ নভেম্বর গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন হাইকোর্ট। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১১ ডিসেম্বর সেই ভুয়া ডাক্তার আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে থানায় পাঠানোসহ সংশ্লিষ্ট চার জনের বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ দেন। অভিযুক্ত অন্য তিনজন হলেন, নিরাময় ক্লিনিকের মালিক, নার্স ও মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট।








