বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দুটি উদ্দেশ্য সফল করতে আন্দোলন করেছিলেন। একটি হলো বাঙালি জাতির মুক্তি, অর্থাৎ বাংলাদেশের স্বাধীনতা; অন্যটি হলো বাঙালির অর্থনৈতিক মুক্তি, অর্থাৎ সোনার বাংলা গড়ে তোলা। তিনি বাংলাদেশ স্বাধীন করে গেছেন।’
এখন বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য কাজ করছেন উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শেখ হাসিনা দেশবাসীকে দুটি প্রতিশ্রুতি দিয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন। একটি হলো ডিজিটাল বাংলাদেশ, অন্যটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়া। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে হবে ডিজিটাল মধ্যম আয়ের দেশ। শেখ হাসিনা শুধু বাংলাদেশের নয়, তিনি এখন বিশ্বনেতা।’
বাণিজ্যমন্ত্রী মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) ঢাকায় সুলতানা কামাল মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে স্বর্ণ-কিশোরী নেটওয়ার্ক ফাউন্ডেশন আয়োজিত স্বর্ণ-কিশোরী জাতীয় কনভেনশন-২০১৭ এর এক পর্বের প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। সারাদেশ থেকে অন্তত পাঁচ হাজার কিশোরী এ কনভেনশনে যোগ দেয়।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার জন্য এক কাতারে দাঁড় করিয়েছিল। তিনি বাঙালি জাতির অধিকার আদায়ের জন্য বহুদিন জেলে কাটিয়েছেন। জেল-জুলুম তাকে দাবিয়ে রাখতে পারেনি। পাকিস্তান সৃষ্টির পর তিনি বলেছিলেন, পাকিস্তান বাঙালিদের জন্য সৃষ্টি হয়নি। বাঙালিকে নিজের ভাগ্য নিজেরই নির্ধারণ করতে হবে। ১৯৪৮ সাল থেকেই পরিকল্পিতভাবে তিনি দেশের স্বাধীনতার জন্য ধীরে ধীরে জাতিকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচন, ১৯৫৬ সালে শানসতন্ত্র আন্দোলন, ১৯৬২ সালে শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালে ৬ দফা আন্দোলন, ১৯৬৭ সালে গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ এরই ধারাবাহিকতা।’
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু কোনোদিন নিজের জন্মদিন পালন করতেন না। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, আমি আমার জন্মদিন পালন করি না। যে জাতি অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটায়; কথায় কথায় গুলি করে হত্যা করা হয়; সে জাতির নেতা হিসেবে আমি জন্মদিন পালন করতে পারি না। এ দিনে আমার প্রতিজ্ঞা বাঙালি জাতির সার্বিক মুক্তি। বাঙালি জাতির মুক্তির জন্য বঙ্গবন্ধু বারবার মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছিলেন। মৃত্যুভয়ে তিনি থেমে থাকেননি, বাঙালি জাতির মুক্তির জন্য সংগ্রাম করে গেছেন।’
বাণিজ্যমন্ত্রী কিশোরীদের উদ্দেশে বলেন, ‘স্কুল-কলেজে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। সবাইকে তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ হতে হবে। সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশের সেবা করতে হবে। ডিজিটাল সুবিধা গ্রহণ করতে হবে। ডিজিটাল ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ দেশই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চেয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন আজ তারই কন্যা বাস্তবায়ন করছেন। বাংলাদেশের উন্নয়ন বিশ্ববাসীর কাছে প্রশংসিত হচ্ছে। বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। এ উন্নয়নের সুফল ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে।’
স্বর্ণ-কিশোরী নেটওয়ার্ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অ্যান্ড সিইও ফারজানা ব্রাউনিয়া অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন।








