‘সম্প্রতি দেখা গেলো প্রাথমিকের বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্নও ফাঁস হলো। এই প্রাথমিক পর্যায়ে কি এমন পড়ানো হয় যেটির প্রশ্নও ফাঁস করতে হবে। আর এভাবে যে একের পর এক প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে, এটার প্রমাণ থাকার পরও শিক্ষামন্ত্রী পর্যন্ত তা অস্বীকার করেন।’ বৃহস্পতিবার বাংলা ট্রিবিউন আয়োজিত ‘প্রশ্ন ফাঁস’ শীর্ষক বৈঠকিতে অংশ নিয়ে বাংলা ট্রিবিউনের চিফ রিপোর্টার উদিসা ইসলাম এসব কথা বলেন।
উদিসা ইসলাম বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে প্রশ্ন ফাঁসের মত একটি নেতিবাচক বিষয় নিয়ে আমাদের আজ আলোচনা করতে হচ্ছে। আমি মনে করি, প্রশ্ন বলে দেওয়া, প্রশ্নের ইঙ্গিত দেওয়া এবং প্রশ্নের ব্যাংক থাকা এক জিনিস এবং পরীক্ষার আগের দিন হোক অথবা পরীক্ষার এক ঘণ্টা/আধা ঘণ্টা আগে প্রশ্নপত্র হুবহু পেয়ে যাওয়া ও একই সঙ্গে অভিভাবক প্রশ্ন কেনার জন্য ঝাঁপিয়েও পড়া এটা অন্য জিনিস। এটিই বেশি ভয়ঙ্কর। আর বর্তমানে আমরা এই পরিস্থিতিতে এসে পৌঁছেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিকের প্রশ্ন ফাঁস হলে সেই পরীক্ষা বাতিল হলেও জেএসসি, পিইসি, এসএসসি, এইচএসসি, বিশ্ববিদ্যালয় এবং চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল হয় না এবং প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে সেটাও অস্বীকার করা হয়।’
এই প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের না ধরতে পারা কিংবা নতুন প্রজন্মকে এই অনৈতিক কাজে ঢুকিয়ে দেওয়ার মানসিকতা তৈরি করে দিচ্ছি কিনা প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘এছাড়া এর ফলাফল কোন জায়গায় গিয়ে দাঁড়াবে, এ বিষয়ে করণীয় কি হবে তা আজ এই আলোচনার মাধ্যমে বের হয়ে আসবে বলে আমি মনে করি।’
মাহবুবুল হকের সঞ্চালনায় বৈঠকিতে আলোচক হিসেবে আরও উপস্থিত রয়েছেন শিক্ষাবিদ সলিমুল্লাহ খান, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক অসিত বরণ পাল ও বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আবদুর রউফ পাবলিক কলেজের শিক্ষক অমূল্য কুমার বৈদ্য।
আরও পড়ুন: ‘প্রশ্ন ফাঁস’ শীর্ষক বাংলা ট্রিবিউন বৈঠকি শুরু
ছবি: নাসিরুল ইসলাম








