আজ থেকে ঠিক চার মাস আগে গত ২৫ আগস্ট সন্ত্রাসী হামলার অজুহাতে রাখাইনে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা নৃগোষ্ঠীর মানুষদের ওপর বর্বর নির্যাতন শুরু করে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী।‘অপারেশন ক্লিয়ারেন্স’ নামের ওই অভিযান শুরু হওয়ার পর গত চার মাসে সাড়ে ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। বর্তমানে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা ১০ লাখেরও বেশি। এখনও বাংলাদেশে পালিয়ে আসছে রোহিঙ্গারা।সম্পূর্ণ মানবিক কারণে বাংলাদেশ সরকার তাদের আশ্রয় দিলেও তারা যেন মর্যাদার সঙ্গে দেশে ফিরে যেতে পারে সে ব্যাপারে অব্যাহতভাবে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।এজন্য বাংলাদেশের লক্ষ্য রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসন।
রোহিঙ্গা সংকট শুরুর পর থেকে গত চার মাসে অন্তত পাঁচ বার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে এ ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে। জাতিসংঘের থার্ড কমিটিতে ভোটাভুটিতে ১৩৫টি দেশ মিয়ানমারের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে, মানবাধিকার কাউন্সিলে ৩৩টি দেশ মিয়ানমারের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে।
দ্বিপক্ষীয়ভাবে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার একাধিক বৈঠক করার পর রোহিঙ্গাদের ফেরাতে ২৩ নভেম্বর একটি অ্যারেঞ্জমেন্ট স্বাক্ষর করে। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পাদন করার জন্য গত ১৯ ডিসেম্বর যৌথ ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করা হয়।
যৌথ ওয়ার্কিং কমিটি কবে থেকে কাজ শুরু করবে জানতে চাইলে সরকারের একজন কর্মকর্তা বলেন, গঠনের পর থেকেই এটি কার্যক্রম শুরু করেছে। এর প্রথম বৈঠকের তারিখ নিয়ে আমরা আলোচনা করছি এবং মিয়ানমারের অনুমোদন সাপেক্ষে বাংলাদেশ চায় এর প্রথম বৈঠক রাখাইনে করতে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, টেকসই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন। সেজন্য রাখাইনে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে হবে যাতে রোহিঙ্গারা নিরাপদ অনুভব করে এবং জীবন-জীবিকা নির্বাহ করতে পারে। রোহিঙ্গাদের অধিকারের বিষয় নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন এবং এ কারণে দ্ব্পিক্ষীয় চুক্তিতে আমরা তাদের অধিকারের বিষয় যতদূর সম্ভব উল্লেখ করেছি।
এনটিএফ বৈঠক
রোহিঙ্গাদের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য রোহিঙ্গা বিষয়ক ন্যাশনাল টাস্কফোর্সের বৈঠক আগামী বুধবার অনুষ্ঠিত হবে।
সরকারের আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, যখন এই টাস্কফোর্স গঠন করা হয়, তখন রোহিঙ্গার সংখ্যা ছিল তিন লাখের কম এবং কর্মপরিধি সীমিত ছিল। কিন্তু বর্তমানে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ায় এর ব্যাপ্তি বেড়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এই রোহিঙ্গাদের খাদ্য, বাসস্থান, স্যানিটেশনসহ অন্যান্য সুবিধা দেওয়া এবং বিভিন্ন সংস্থা ও দেশের সহযোগিতায় সরকার যথাসাধ্য চেষ্টা করছে রোহিঙ্গাদের মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য।
এনটিএফ এর বৈঠকে রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি আলোচনার পাশাপাশি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে তিনি জানান।








