
রাজধানীতে চলাচলরত ব্যক্তি মালিকানাধীন বাস ও মিনিবাসের প্রায় ৯৫ শতাংশ লক্কড়ঝক্কড় বলে দাবি করেছেন পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনসহ ১৬ টি সংগঠন। মঙ্গলবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে সংগঠনগুলোর নেতারা এ দাবি করেন। রাজধানী ঢাকায় গণপরিবহনে নৈরাজ্য বন্ধের দাবিতে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, এই ৯৫ শতাংশ বাস-মিনিবাসের মেয়াদ অনেক বছর আগেই শেষ হয়েছে। বিআরটিসির বাসগুলোর অবস্থাও একই।
পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সোবহান বলেন, রাজধানীর প্রায় বাসেই সরকার নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা দেখা যায় না। গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়সহ বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত কিংবা পুলিশের বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে মোটরযান আইন প্রয়োগ করতে গেলে মালিকরা বাস চালানো বন্ধ রেখে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে।
তিনি বলেন, প্রতিটা বাস ২০ শতাংশ আসন খালি নিয়ে চলবে―এমনটা ধরেই ভাড়া ঠিক করা হয়েছে। ফলে আলাদা করে সিটিং সার্ভিস চালু রাখা বা আলাদা ভাড়া নির্ধারণ করা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। রাস্তার মাঝখানে বাসে যাত্রী ওঠানো-নামানোর ক্ষেত্রে কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে। রাস্তার মাঝখানে, রাস্তার মোড়ে ও সিগন্যালে বাস থামিয়ে রাখা কোনোভাবেই চলবে না।
ঢাকায় শতকরা ৬ থেকে ৭ ভাগ মানুষ প্রাইভেট গাড়ি ব্যবহার করে বলে দাবি করে তিনি আরও বলেন, প্রাইভেট গাড়িগুলো ঢাকার রাস্তায় শতকরা ৬৫ ভাগ দখল করে রাখে। আর ৯৩ থেকে ৯৪ ভাগ মানুষ প্রতিদিন বাসে , রিকশায় বা পায়ে হেঁটে যাতায়াত করে । ঢাকায় গণপরিবহন ব্যবস্থাকে উপেক্ষা করায় দ্রুত প্রাইভেট কার বেড়ে গেছে। কিন্তু যানজটমুক্ত মহানগরীর জন্য গণপরিবহন ব্যবস্থার নৈরাজ্য দূর করা জরুরি।
এ সময় পবার পক্ষ থেকে বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এগুলো হচ্ছে, বিদ্যমান মোটরযান আইন কঠোরভাগে প্রয়োগ এবং সময়োপযোগী মোটরযান আইন প্রণয়ন করা, রাজধানী ঢাকার গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়সহ বিভিন্ন ধরনের নৈরাজ্য বন্ধে বিআরটিএ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, পরিবেশ অধিদফতর, ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ।
মানববন্ধন আয়োজন করে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা), নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ ফোরাম, মর্ডান ক্লাব, পরিবেশ আন্দোলন মঞ্চ, বিসিএইচআরডি, পুরান ঢাকা নাগরিক উদ্যোগ, সুবন্ধন সমাজ কল্যাণ সংগঠন, পরিবেশ উন্নয়ন সোসাইটি, সচেতন নগরবাসী, ইয়ুথ সান, মার্শাল আর্ট ফাউন্ডেশন, সূচনা নারী ও সমাজ উন্নয়ন সংস্থা, স্বপ্নের সিঁড়ি, দেবীদাস ঘাট সমাজ কল্যাণ সংসদ, বিডি ক্লিক, নগরবাসী সংগঠন, বাংলাদেশ নিরাপদ পানি আন্দোলন।








