‘রাজনৈতিক কারণে গুম হলেও তো একটা যুক্তি পাওয়া যায়’

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
৩১ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৩:৪১আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৪:৩০

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সংবাদ সম্মেলন রাজনৈতিক কারণে কেউ গুম হলেও তো ঘটনার একটা যুক্তি পাওয়া যায় বলে মন্তব্য করেছেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক শিপা হাফিজা। তিনি বলেন, ‘যখন রাজনৈতিক কারণে কেউ গুম বা নিখোঁজ হন,তখন  একটা যুক্তি খুঁজেও পাওয়া যায়। আমাদের দেশে রাজনীতিতে নোংরা খেলা চলে। কখনও এটা সমানে সমানে হয় না। এ বছর সেই গণ্ডি পেরিয়ে সাধারণ মানুষ যেমন, টিচার,শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, পাবলিশারসহ বিভিন্ন মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন। এটা অনেক বেশি ভয়াবহ। অনেক বেশি আশঙ্কার।’

২০১৭ সালে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। রবিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংস্থার সমন্বয়ক আবু আহমেদ ফয়জুল কবির।

শিফা হাফিজা বলেন, ‘সচেতনতা বাড়াতেই আমাদের এই উদ্যোগ। একটা মানুষকে যখন ঘর থেকে তার অমতে বের করে নেওয়া হয় তখন তা মানবাধিকার লঙ্ঘন। মানুষের এ অন্যায়ের প্রতিবাদ করার অধিকার সেটা জানাতেই আমাদের এ উদ্যোগ। এর বিচার চাইতে হবে রাষ্ট্রের কাছে। রাষ্ট্র যেনও বুঝতে পারে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কোনোভাবেই মানবাধিকার লঙ্ঘন করে বেশিদিন করা যাবে না।’

মাসের পর মাস নিখোঁজের পর গ্রেফতারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তুলে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত জঘন্য মানবাধিকার লঙ্ঘন। বিশেষ করে যখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে কাজটি করা হয়।  এ বছর ৯১ জন মানুষ গুম ও নিখোঁজ হয়েছেন। সরকারের উচিত হচ্ছে এগুলো অনুসন্ধান করা।’

ফয়জুল কবির বলেন, মানবাধিকারের প্রধান সূচকের মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার। এ বছরও ইতিবাচক অগ্রগতির ধারা অব্যাহত ছিল। তবে নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের ক্ষেত্রে আশানুরূপ অগ্রগতি হয়নি। ২০১৭ সালের সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি ছিল চরম উদ্বেগজনক। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে সাবেক রাষ্ট্রদূত থেকে শুরু করে সরকারি কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রকাশক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, রাজনৈতিক দলের নেতা, পৌর মেয়রকে তুলে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া বছর জুড়ে অব্যাহত ছিল ক্রসফায়ার, গুলিবিনিময় ও বন্দুকযুদ্ধের নামে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড।

এছাড়াও ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, সভা সমাবেশে বাধা, রোহিঙ্গা ইস্যু, সাংবাদিক নির্যাতন, সীমান্ত হত্যা, নারী অধিকার, ফতোয়া, শ্রমিক অধিকার, শিশু নির্যাতন ও হত্যা, ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠী, স্বাস্থ্যের অধিকারসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

 

 

 

/জেইউ/ এসটি/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম