মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হওয়াকে নিজেদের জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মোস্তাফা জব্বার মন্ত্রী, লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম শাহজাহান কামাল ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী। তারা জানান, যে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হোক না কেন, বর্তমান সরকারের উন্নয়নমূলক কাজে তারা নিজেদের নিয়োজিত করবেন। পাশপাশি, স্ব স্ব অবস্থান থেকে বিশেষ ভূমিকা পালন করবেন। মঙ্গলবার (২ জানুয়ারি) রাতে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় তারা এসব কথা জানান।
উন্নয়ন কাজে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে নারায়ণ চন্দ্র চন্দ বলেন, ‘অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে, ঘাত-প্রতিঘাত মোকাবিলা করে এপর্যন্ত এসেছি। সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করা এবং উন্নয়ন কাজে নিজেকে নিয়োজিত করাই হবে আমার প্রধান কাজ।’ মঙ্গলবার (২ জানুয়ারি) রাতে মন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণ শেষে বঙ্গভবন থেকে বের হওয়ার পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা জানান।
মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়াকে নিজের পঞ্চাশ বছরের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন জানিয়ে নারায়ণ চন্দ্র চন্দ বলেন, ‘এর আগে সংসদ সদস্য হয়েছি, তারপর প্রতিমন্ত্রী হয়েছি। এবার আমাকে মন্ত্রী করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এজন্য আমি খুবই আনন্দিত।’
কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন তা এখনও জানেন না বলে জানান তিনি। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হলে প্রধান কাজ কী হবে –এই প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ‘মাছে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ, শিগগিরই সেই ঘোষণা দেবো। এছাড়া নতুন যে সমুদ্রসীমা পেয়েছি, তার জরিপ সম্পন্ন করে সেখান থেকে মৎস্য আহরণ করাই হবে আমার প্রধান চ্যালেঞ্জ।’
নারায়ণ চন্দ্র চন্দ আরও বলেন, ‘মাংসের উৎপাদন বৃদ্ধি ও চাহিদা পূরণে কী কী করা যায়, সে বিষয়েও পরিকল্পনা করব এবং তা পূরণ করব।’
এদিকে, মন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণের পর বঙ্গভবন থেকে বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (বিসিএস) অফিসে যান বিসিএসের সাবেক সভাপতি মোস্তাফা জব্বার। সেখানে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি তথ্যপ্রযুক্তি খাতের প্রতিনিধিত্ব করছি। আজকের বাংলাদেশে আমাদের বেশ কিছু অর্জন রয়েছে। এ যুগ ডিজিটাল শিল্প বিপ্লবের। এখনই যদি ঠিকভাবে আমরা নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে না পারি, তাহলে পৃথিবীর বুকে জায়গা করে নেওয়া কঠিন হবে।’
তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলে কোন কাজগুলোকে অগ্রাধিকার দেবেন –এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারকে ডিজিটাল সরকার এবং আইসিটি খাতকে ডিজিটাল শিল্প হিসেবে রূপান্তর করব। ডিজিটাল বাংলাদেশের ভিত্তি তৈরি হয়ে গেছে। কিছু কিছু জায়গায় আমাদের গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন আছে। সেদিকে আমি নজর দেবো।’
মোস্তাফা জব্বার আরও বলেন, ‘আমার মন্ত্রণালয়ে কেবল ইংরেজি চিঠি আসতে পারবে না। তবে বাংলাসহ দুই ভাষায় চিঠি আসবে।’
ইন্টারনেটকে ডিজিটাল শিল্প বিপ্লবের বাহক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তৃণমূল থেকে দেখেছি, ইন্টারনেটের মূল্য, গতি, সেবার জায়গাগুলোতে চরম বিশৃঙ্খলা, অব্যবস্থাপনা বিরাজ করছে। আমি যে জায়গায় কাজ করতে চাই, সেটা হচ্ছে ইন্টারনেটকে জনগণের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার বানানো। প্রধানমন্ত্রী আমাকে যে মন্ত্রণালয়েরই দায়িত্বই দিন না কেন, আমার যে প্রায়োরিটির জায়গাগুলো আছে, সেগুলোতে আমি কাজ করবো।’
শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তর জরুরি উল্লেখ করে মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘শিশু শ্রেণি থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে শিক্ষা নিয়ে কাজ করব।’
এদিকে, মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম শাহজাহান কামাল এক প্রশ্নের জবাবে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে রাজনীতি করেছি। জাতির জনক ১৯৭৩ সালে আমাকে মনোনয়ন দিয়ে সংসদ সদস্য করেছিলেন। এবার তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মন্ত্রী করেছেন। এ দায়িত্ব পেয়ে আমি আনন্দিত। আমার কাজ হবে দেশের সেবা করা, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দেশকে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নেওয়া। আমি সহজ সরল মানুষ, থাকি গ্রামে। মন্ত্রিত্বকে আমি সেবা মনে করি।’
এদিকে, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে বঙ্গভবন থেকে বের হওয়ার পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে কাজী কেরামত আলী বলেন, ‘মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে যে সব অসঙ্গতি রয়েছে তা শনাক্ত করাই হবে আমার প্রথম কাজ। একইসঙ্গে এসব অসঙ্গতি দূর করাই হবে আমার প্রধান চ্যালেঞ্জ।’
এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সরকারের মেয়াদের চার বছরের মাথায় মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম শাহজাহান কামাল ও তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মোস্তাফা জব্বার মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। আর প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন কাজী কেরামত আলী।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যদের শপথ পড়ান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
সরকারের গতিশীলতা বাড়ানো, প্রশাসনিক কর্ম-তৎপরতা বাড়াতে এ বছর মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের দিকে ঝুঁকে সরকার। এরই অংশ হিসেবে মন্ত্রী হিসেবে মঙ্গলবার শপথ নিতে বঙ্গভবনে ডাক পান নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, এ কে এম শাহজাহান কামাল, কাজী কেরামত আলী ও মোস্তাফা জব্বার।








