পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফরম পূরণ বাবদ সরকারি ফি’র বাইরে অতিরিক্ত ফি আদায় কেন বেআইনি হবে না, তা জানতে চেয়ে জারি করা রুলের শুনানিতে হাইকোর্ট বলেছেন, ‘গলায় দড়ি বেঁধে বলবেন কোচিংয়ে যেতে হবে, আবার অতিরিক্ত ফি নেবেন, তা হবে না।’
বুধবার (৩ জানুয়ারি) এক আবেদনের শুনানিকালে বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মাদ উল্লাহ’র সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এই মন্তব্য করেন।
আদালতে মামলার বিবাদী গাজীপুর হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির সেক্রেটারি ও অধ্যক্ষের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সুহান খান। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস।
শুনানিকালে ব্যারিস্টার সুহান খান আদালতকে বলেন, ‘পরীক্ষার ফি’র পাশাপাশি অতিরিক্ত টিউশনের বিনিময়ে কিছু ফি গ্রহণ করা যায়। তবে এই অতিরিক্ত সুবিধা গ্রহণ করবে কী করবে না, তা শিক্ষার্থীদের বিষয়।’
এসময় আদালত বলেন, ‘না, গলায় দড়ি বেঁধে বলবেন কোচিংয়ে যেতে হবে, আবার অতিরিক্ত ফি নেবেন, তা হবে না।’
এরপর ব্যারিস্টার সুহান এ মামলায় শুনানির জন্য দুই সপ্তাহ সময় চান। আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করেন এবং পরবর্তী শুনানি ও আদেশের জন্য আগামী ১৮ জানুয়ারি দিন নির্ধারণ করেন।
এর আগে গত ২৩ নভেম্বর হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার গাজীপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মো. জালাল উদ্দিন খান একটি রিট দায়ের করেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট জহির উদ্দিন লিমন।
এরপর গত ২৮ নভেম্বর এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফরম পূরণ বাবদ সরকারি ফি’র বাইরে অতিরিক্ত ফি আদায় কেন বেআইনি হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।
সেই রুলে শিক্ষা সচিব, সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক, শিক্ষা অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট নয় জনকে চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়।
একইসঙ্গে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার গাজীপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ, পরিচালক পর্ষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ফি আদায়ের জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা আজ বুধবারের (৪ জানুয়ারি) মধ্যে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে জানাতে বলা হয়েছিল।
এছাড়া, গত ১৩ ডিসেম্বর এসএসসি, এইচএসসি এবং সমমানের পরীক্ষায় অতিরিক্ত ফি নেওয়াকে অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ৩০ দিনের মধ্যে বর্ধিত ফি ফেরত না দিলে প্রতিষ্ঠানগুলোর গভর্নিং বডির কার্যক্রম স্থগিত করা হবে বলে আদেশ দেওয়া হয়। বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহ’র হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।








