চাকরি স্থায়ী করার দাবিতে সমাবেশ করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কর্মচারী-শ্রমিকরা। এতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রীসেবা বিঘ্নিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি) চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কুর্মিটোলায় প্রধান কার্যালয় বলাকা ভবনের সামনে জড়ো হন বিমানের ক্যাজুয়াল শ্রমিকরা।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্বে থাকা বেশিরভাগ জনবল বিমানের ক্যাজুয়াল শ্রমিক। চাকরি স্থায়ী করার দাবিতে সকাল ১০টা থেকেই শ্রমিকরা বিমানবন্দর থেকে সমাবেশে যোগ দিতে বিমানের প্রধান কার্যালয়ে চলে যান। বিমান শ্রমিক লীগের (সিবিএ) ডাকা সমাবেশে প্রায় ৫ শতাধিক শ্রমিক সমাবেশে যোগ দিয়েছেন।
বিমানবন্দরের আমর্ড পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, বিমানের অনেক কর্মী চাকরি স্থায়ী করার দাবিতে বিমানবন্দরে ছেড়ে চলে গেছেন। এতে যাত্রীদের ব্যাগেজ সরবরাহ করতে সমস্যা হচ্ছে। আরও বেশি সময় এ অবস্থা চললে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়বে।
এদিকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপন জারি করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সব শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিকে এসেনসিয়াল সার্ভিস অর্ডিন্যান্সের আওতাভুক্ত করেছে। এর ফলে বিমানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবশ্যই দায়িত্ব পালন করতে হবে। কোনও কর্মী দায়িত্ব পালন না করলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারবে বিমান কর্তৃপক্ষ।
সমাবেশের ফলে এসেনসিয়াল সার্ভিস অমান্য হবে কিনা জানতে চাইলে মশিকুর রহমান বলেন, ‘এসেনসিয়াল সার্ভিস অর্ডিন্যান্সে বলা হয়েছে কর্মবিরতি পালন, অবরোধ বা কাজ বন্ধ রেখে আন্দোলন করা যাবে না। কর্মবিরতি দিয়ে কেউ সমাবেশে আসেনি। বিমানের কাজ শিফট ভিত্তিতে হয়। সমাবেশের সময় যাদের ডিউটি নেই তারাই শুধু সমাবেশে এসেছেন।’
শাহজালালে যাত্রীসেবা বিঘ্নিত হওয়া প্রসঙ্গে বিমানের কাস্টমার সার্ভিসের পরিচালক আলী আহসান বাবু বলেন, ‘শ্রমিকদের সমাবেশের কারণে যাত্রীসেবা বিঘ্নিত হচ্ছে এমন অভিযোগ এখনও পাইনি। তবে আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের সমাবেশ শেষ করে কাজে ফেরার ব্যবস্থার উদ্যোগ নিচ্ছি।’
প্রসঙ্গত, জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী আজ বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি)। রাষ্ট্রীয় সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স প্রতিষ্ঠার পর থেকেই যাত্রী পরিবহন ছাড়াও দেশের বিমানবন্দরগুলোর গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা এককভাবে দিয়ে যাচ্ছে। গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিংয়ের আওতায় বিভিন্ন এয়ারলাইন্স ও যাত্রীদের লাগেজসহ বিভিন্ন সেবা দেওয়া হয়। কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের আওতায় ব্যবসায়ীদের আমদানি-রফতানিতেও সেবা দেওয়া হয়।








