একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্ভুল ভোটার তালিকা করতে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একইসঙ্গে কর্মকর্তাদের এখন থেকেই জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতিরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রবিবার রাজধানীর আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত মাঠপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বৈঠকে ইসির আঞ্চলিক, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা, বিভিন্ন জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসাররা অংশ নেন। ভোটার তালিকা সংশোধনী কর্তৃপক্ষ হিসেবে এসব কর্মকর্তাকে নিয়োগ দিয়েছিল কমিশন।
ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের মাঝে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আইন ও বিধি সংবলিত ‘নির্বাচনি ম্যানুয়েল’ বিতরণ করা হয়। আগে থেকেই এগুলো পড়ে ইসির নির্বাচনি আইনকানুন জেনে সমৃদ্ধ হতে এ ম্যানুয়াল দেওয়া হয়েছে বলে ইসি সূত্রে জানা গেছে।
বৈঠকে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা জানান, ভোটার তালিকা হালনাগাদ নিয়ে বৈঠকের আয়োজন করা হলেও ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিবের বক্তব্যে নির্বাচনি প্রস্তুতি নেওয়ার বিষয়টি ফুটে উঠেছে। আগামী নির্বাচনে প্রশাসনের কর্মকর্তারা যে বড় ভূমিকায় থাকবেন, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
এদিকে ইসি সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী নির্বাচন পরিচালনায় ইসির বাজেট ৬০০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৈঠক শেষে ইসির সচিব সাংবাদিকদের জানান, ‘গত ২ জানুয়ারি সারা দেশে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এতে সংশোধনকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে যাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তাদের একদিনের একটি ব্রিফিং দিয়েছি। তাদের বলেছি, যে খসড়া ভোটার তালিকাটি সঠিকভাবে চূড়ান্ত রূপ পায়। এই ভোটার তালিকার ওপরেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সুতরাং আমরা চাই, সামনে যে ভোটার তালিকাটি হবে, সেটি যেন নির্ভুল হয়।’
ইসির সচিব বলেন, ‘এই খসড়া ভোটার তালিকার ওপরে আগামী ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত দাবি আপত্তি ও সংশোধনের বিষয়ে আবেদন গ্রহণ করা হবে। এই আবেদনের পর সংশোধনকারী কর্তৃপক্ষ ২২ জানুয়ারির মধ্যে সেগুলো নিষ্পত্তি করবেন। ২৭ তারিখের মধ্যে একীভূত করবেন। আগামী ৩১ জানুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।’
প্রসঙ্গত, গত ২ জানুয়ারি খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করে ইসি। খসড়া তালিকায় নতুন যুক্ত হয়েছে প্রায় ৪৩ লাখ নতুন ভোটার। বাদ পড়েছে প্রায় সাড়ে ১৭ লাখ মৃত মানুষ। বর্তমানে ভোটার ১০ কোটি ৪০ লাখ ৫১ হাজার ৮৮৩ জন। চূড়ান্ত তালিকায় এ সংখ্যার হেরফের হতে পারে।
বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী ও জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।








