বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হাই বাচ্চুকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার বেলা ১টা ৫৫ মিনিটে দুদক কার্যালয়ে আসেন আব্দুল হাই বাচ্চু। পরে তিনি দুদকের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নির্ধারিত কক্ষে প্রবেশ করেন।
এর আগে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বেসিক ব্যাংকের মামলা তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থমন্ত্রণালয়ের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই বেসিক ব্যাংকের বিষয়ে মামলা হয়েছে। চার্জশিট দেওয়ার ক্ষেত্রে এই রিপোর্টই যথেষ্ট না। তবে এই রিপোর্টটি আমরা আমলে নিয়েছি। চার্জশিট কবে, কখন হবে তা তদন্ত কর্মকরর্তা বলতে পারবেন। আমি বলতে পারবো না।’
এছাড়াও গত রবিবার সকালে এবি ব্যাংকের পরিচালক বি বি সাহা রায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ ডিসেম্বর আব্দুল হাই বাচ্চুকে তৃতীয়বারের মতো জিজ্ঞাসাবাদের কথা ছিল। কিন্তু অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে এক মাসের সময় চেয়ে দুদকের কাছে লিখিত আবেদন করেছিলেন তিনি। এর আগে, গত ৪ ডিসেম্বর আব্দুল হাই বাচ্চুকে প্রথম দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করেন দুদক। এরপর গত ৬ ডিসেম্বর দ্বিতীয়বারের মতো প্রায় সাত ঘণ্টা আব্দুল হাই বাচ্চুকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন দুদকের তদন্ত কর্মকর্তারা।
প্রথম দিন জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন বাচ্চু। তবে দ্বিতীয় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্ন এড়িয়ে যান তিনি।
বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় দুদকের দায়ের করা ৫৬টি মামলার বিষয়ে আব্দুল হাই বাচ্চুকে দুদকের পরিচালক এ কে এম জায়েদ হোসেন খান ও সৈয়দ ইকবালের নেতৃত্বে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আগের দুই দফায় ৫৬টি মামলার মধ্যে ১৫টি মামলার বিভিন্ন বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তারা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। বাকি মামলাগুলোর বিষয়েও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার কথা রয়েছে।
বেসিক ব্যাংকের দুর্নীতি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের কয়েক দফা পর্যবেক্ষণ আসার পর ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হাই বাচ্চুকে জিজ্ঞাসাবাদের উদ্যোগ নেয় দুদক। এর আগে, ব্যাংকটির সাবেক ১০ পরিচালককেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
উল্লেখ্য, প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা লোপাটের ঘটনায় ২০১৫ সালের ২১, ২২ ও ২৩ সেপ্টেম্বর তিন দিনে টানা ৫৬টি মামলা করেন দুদকের অনুসন্ধান দলের সদস্যরা। রাজধানীর মতিঝিল, পল্টন ও গুলশান থানায় এসব মামলায় আসামি করা হয় ১৫৬ জনকে।
অনিয়মের মাধ্যমে ২ হাজার ৬৫ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছিল বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। এর মধ্যে রাজধানীর গুলশান শাখায় এক হাজার ৩০০ কোটি টাকা, শান্তিনগর শাখায় ৩৮৭ কোটি টাকা, প্রধান শাখায় প্রায় ২৪৮ কোটি টাকা ও দিলকুশা শাখায় ১৩০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়। এছাড়া অভিযোগের বাকি অংশের অনুসন্ধান দুদকে চলমান।
মামলায় আসামিদের মধ্যে বেসিক ব্যাংকের কর্মকর্তা আছেন ২৬ জন। বাকি ১৩০ জন আসামি ঋণগ্রহীতা ৫৪ প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ও সার্ভে প্রতিষ্ঠান। ব্যাংকার ও ঋণগ্রহীতাদের অনেকেই একাধিক মামলায় আসামি হয়েছেন। এর মধ্যে ব্যাংকের সাবেক এমডি কাজী ফখরুল ইসলামকে আসামি করা হয়েছে ৪৮টি মামলায়। সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া ডিএমডি ফজলুস সোবহান ৪৭টি, কনক কুমার পুরকায়স্থ ২৩টি, মো. সেলিম ৮টি, বরখাস্ত হওয়া ডিএমডি এ মোনায়েম খান ৩৫টি মামলার আসামি। তবে কোনও মামলায় ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হাই বাচ্চু বা পরিচালনা পর্ষদের কাউকে আসামি করা হয়নি।
২০০৯ সাল থেকে ২০১২ সালের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংকের গুলশান, দিলকুশা ও শান্তিনগর শাখা থেকে অনিয়মের মাধ্যমে মোট সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণের অভিযোগ ওঠার পর এই ব্যাংক নিয়ে তদন্তে নামে দুদক।
জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল হাই বাচ্চুকে ২০০৯ সালে বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেয় সরকার। ২০১২ সালে তার নিয়োগ নবায়নও হয়। কিন্তু ঋণ কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠলে ২০১৪ সালে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ফখরুল ইসলামকে অপসারণ করার পর পদত্যাগ করেন তিনি।








