সরকারি আট ব্যাংকে সমন্বিত নিয়োগ পরীক্ষার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) মানববন্ধন করেছেন পরীক্ষার্থীরা। এই নিয়োগ পরীক্ষা একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তিন ব্যাংকের ওপর আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে আটটি ব্যাংকের পাঁচ ব্যাংকের পরীক্ষা আগামী ১২ জানুয়ারি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি (বিএসসি)। এর প্রতিবাদ জানিয়ে আট ব্যাংকের পরীক্ষা একসঙ্গে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন মানববন্ধনের অংশ নেওয়া পরীক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (৯ জানুয়ারি) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে পাঁচ শতাধিক পরীক্ষার্থী এই মানববন্ধনে অংশ নেন।
বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব), বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশসহ (আইসিবি) আট ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা আগামী শুক্রবার (১২ জানুয়ারি) হওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে রবিবার (৭ জানুয়ারি) রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, রূপালী ও জনতা ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা গত স্থগিত করেন হাইকোর্ট।
পরীক্ষার্থীদের দাবি, আগামী ১২ তারিখে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া পাঁচ ব্যাংকের পরীক্ষা স্থগিত করে হাইকোর্টের রিট দ্রুত নিষ্পত্তি করে আট ব্যাংকের পরীক্ষা একসঙ্গেই নিতে হবে। তারা বলছেন, সমন্বিত পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ দিলে বেকারত্বের চাপ কমবে। আর প্রত্যেকেই কোনও না কোনও চাকরিতে নিয়োগ পাবে।
আন্দোলনরত পরীক্ষার্থী মানসুরা শামসুন দীনা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সার্কুলারে সমন্বিত নিয়োগ পরীক্ষার কথা বলা হয়েছে। তাই আট ব্যাংকের সমন্বিত পরীক্ষাই নিতে হবে। পাঁচ ব্যাংকের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়ে গেলে যারা এই পরীক্ষায় টিকে যাবেন, তারা পরের তিন ব্যাংকের পরীক্ষাতেও হয়তো টিকে যাবেন। ফলে তাদের তুলনায় একটু পিছিয়ে থাকা পরীক্ষার্থীরা সুযোগবঞ্চিত হবেন। এতে বৈষম্য তৈরি হবে।’
আরেক পরীক্ষার্থী ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘বেকারদের চাকরি দেওয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক সিলেকশন কমিটির মাধ্যমে সমন্বিত পরীক্ষার আয়োজন করে। এতে মোট এক হাজার ৬৬৬ জন নিয়োগ পাওয়ার কথা। কিন্তু রিটের কারণে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে মাত্র ৬৯২টি পোস্টের। ফলে অনেকেই বঞ্চিত হবে। ঢাকার বাইরে থেকে আসা পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে এটা উপহাস। আমরা চাই, সার্কুলার মেনেই সমন্বিত পরীক্ষা হোক।’
এদিকে, ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির (বিএসসি) সদস্য সচিব মো. মোশারফ হোসেন খান গতকাল সোমবার (৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা চাই অন্য পাঁচটি ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা যথাসময়েই হোক। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে গভর্নরের অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করছি।’
তবে আজ মঙ্গলবার তিনটি ব্যাংক ছাড়া বাকি পাঁচটি ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত জানা যাবে বলে বিএসসি সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, জনতা ও রূপালী ব্যাংকে ৯৭১ জনকে নিয়োগের উল্লেখ ছিল। এর মধ্যে সোনালী ব্যাংকে শূন্য পদ ছিল ৫২৭টি, জনতা ব্যাংকে ১৬১টি ও রূপালী ব্যাংকে ২৮৩টি। বাকি পাঁচ ব্যাংকে ৬৯২ পদের বিপরীতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল।








