“সা’দ সাহেবের আগমন মানি না, মানবো না”— এমন স্লোগান দিয়ে প্রায় ১০০ শিক্ষার্থী ঢাকার গেণ্ডারিয়ার ফরিদাবাদ মাদ্রাসা থেকে ট্রাকে চড়ে কাকরাইল মসজিদের সামনে এসেছিলেন। বুধবার (১০ জানুয়ারি) সন্ধ্যা গড়াতেই তারা এখানে এসে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাদের দাঁড়াতে দেননি পুলিশ সদস্যরা।
এরপর হোটেল শেরাটনের দিকে কিছুদূর এগিয়ে ট্রাক থেকে নামেন ওই মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা। কিন্তু এখানে তারা মাত্র কয়েক মিনিট অবস্থান করতে পেরেছেন। এরপর পুলিশ এসে রাস্তা থেকে তাদের সরিয়ে দেয়।
এ প্রসঙ্গে ডিএমপি রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মারুফ হোসেন সর্দার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যানচলাচলে যেন বিঘ্নতা না ঘটে সেজন্য গেণ্ডারিয়ার ফরিদাবাদ মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
আসন্ন বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নিতে ভারতের দিল্লিতে নিজামুদ্দিনের ‘বিতর্কিত’ মুরব্বি মাওলানা মুহাম্মদ সা’দের ঢাকায় আসার বিরোধিতা করছেন বাংলাদেশ-ভারতের তাবলিগ জামাতকর্মী ও কওমিপন্থী আলেমদের একাংশ। এরই অংশ হিসেবে বুধবার সকাল ১০টা থেকে বিমানবন্দর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। এ কারণে বিশেষ নিরাপত্তা দিয়ে পুলিশি পাহারায় তাকে কাকরাইলের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।
মাওলানা সা’দ এখন ঢাকার কাকরাইল মসজিদের ভেতরে অবস্থান করছেন। তাই বাইরে রাখা হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এ প্রসঙ্গে রমনা থানা পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, মাওলানা সা’দের বাংলাদেশে আসা ও ইজতেমায় অংশগ্রহণকে ঘিরে তাবলীগ জামাতের একটি অংশ ও কওমিপন্থীরা প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। যে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ঠেকাতে এই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
বিরোধীরা বলছেন, দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে সা’দের ‘বিতর্কিত’ বক্তব্যের কারণে তার সঙ্গে কাজ করতে নিষেধ করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আহমদ শফীসহ দেশের সিনিয়র আলেমরাও চান, বিশ্ব ইজতেমায় সংঘর্ষ এড়াতে সা’দ ও তার অনুসারী বা বিরোধীরাও যেন ইজতেমায় অংশ না নেন।
যদিও সা’দের ঢাকা সফরের পক্ষে রয়েছেন তাবলিগের শুরা সদস্য সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম, মোহাম্মদ খান শাহাবুদ্দীন নাসিম, অধ্যাপক ইউনূস শিকদার ও মাওলানা মোশাররফ হোসাইন।
মাওলানা সা’দ ইজতেমায় অংশ নেবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তার পক্ষের শুরা সদস্য সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আলেমদের সঙ্গে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তার বিষয়ে আলেমদের যে বক্তব্য তা আমরা শুনবো, এরপর দেখা যাবে তিনি ইজতেমায় অংশগ্রহণ করেন কিনা।’
* কাকরাইল মসজিদের সামনে থেকে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দেওয়ার ভিডিও:







