মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির প্রতিবেদনে বিভিন্ন ধরনের অসঙ্গতি পাওয়া গেছে বলে জানালেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। তিনি বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক পরিসংখ্যান নির্ণয়ের লক্ষ্যে গঠিত ৪৭০টি যাচাই-বাছাই কমিটির মধ্যে ৩৬০টির প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। যে সব উপজেলা, জেলা/মহানগরের মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির প্রতিবেদন পাওয়া গেছে, সেগুলোতে বিভিন্ন ধরনের অসঙ্গগতি ও ত্রুটি দেখা যাচ্ছে।’ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে জামালপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতার পর এ পর্যন্ত কতজন মুক্তিযোদ্ধা মারা গেছেন, কতজন জীবিত আছেন, তার সঠিক পরিসংখ্যান মন্ত্রণালয়ে সংরক্ষিত নেই। মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক পরিসংখ্যান নির্ণয়ের লক্ষ্যে ডাটাবেজ কার্যক্রম চলছে।’ ডাটাবেজ কার্যক্রম সম্পন্ন হলে একটি নির্ভুল তালিকা তৈরি করা সম্ভব হবে। তখন জীবিত/মৃত মুক্তিযোদ্ধাদের পরিসংখ্যানসহ তাদের অন্যান্য তথ্য জানা সম্ভব হবে।’
ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা শনাক্তে সবার সহযোগিতা চেয়ে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রহিম উল্লাহর প্রশ্নের জবাবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের শনাক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে, এজন্য ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সন্ধান/তথ্য দিয়ে মন্ত্রণালয়কে জানানোর জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করছি।’
মুক্তিযোদ্ধাদের একটি সঠিক তালিকা প্রণয়ন এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে বলেও ওই সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান। তিনি বলেন, ‘প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়নে যাছাই-বাছাই চলছে। বাছাই কার্যক্রমে কোনও ভুয়া/অমুক্তিযোদ্ধার নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকলে তা বাতিলের বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে পারবে। যাচাই-বাছাইয়ে এ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা পাওয়া গেলে তাদের নামে প্রকাশিত গেজেট ও সনদসহ যাবতীয় সুযোগ সুবিধা বাতিল করা হবে।’
রাজাকারদের তালিকা তৈরি বিষয়ে সরকারি দলের তানভীর ইমামের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘রাজাকারদের তালিকা তৈরির বিষয়ে আমাদের উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। তবে, সমস্যাটা হচ্ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে রাজাকারদের যে তালিকাটি ছিল। ২০০১ সালে বিএনপি-জামাত ক্ষমতায় আসার পর অত্যন্ত সুকৌশলে তা গায়েব করে দেওয়া হয়। এ কারণে মন্ত্রণালয়ে সেই তালিকাটি আর নেই। এই তালিকার একটি অংশ বিভিন্ন থানাতেও ছিল। এর মধ্যে ৬০/৭০টি থানা থেকে এটা জোগাড় করতে পেরেছি। অন্যান্য থানায় তা পাওয়া যায়নি। যে কারণে রাজাকারদের তালিকা সঠিকভাবে করা একটু কঠিন। তবে আমরা আশাহত নই। অবশ্যই জাতির স্বার্থে রাজাকার-আলবদর ও আলশামসদের তালিকা তৈরি অব্যহত রয়েছে। এই তালিকা তৈরির চেষ্টা করছি।’
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে মঙ্গলবার সংসদের বৈঠকের শুরুতে প্রশ্ন-উত্তর অনুষ্ঠিত হয়।








