জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র জুবায়ের আহমেদ হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে তার পরিবার। জুবায়েরের ভাই আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের চিন্তা-ভাবনা আছে। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হলে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
রায়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘উচ্চ আদালত চার জনকে খালাস দিয়েছেন। কোনও আসামি খালাস পাবে তা আমরা আশা করিনি। আমাদের প্রত্যাশা ছিল নিম্ন আদালতের রায়ই উচ্চ আদালতে বহাল থাকবে।’
তবে পাঁচ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখায় সন্তোষ প্রকাশ করে পলাতক আসামিদের খুঁজে বের করে রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানান মামুন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আমির হোসেন বলেন, ‘আমরা সবসময় চেয়েছি, জুবায়ের হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। উচ্চ আদালত যে রায় দিয়েছেন তাতে আমরা সন্তুষ্ট।’
‘শিক্ষক-শিক্ষার্থী ঐক্যমঞ্চ’ এর অন্যতম মুখপাত্র দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে যে হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটে সেগুলোর বিচারের কোনও নজির নেই। সেদিক থেকে জুবায়ের হত্যার রায় একটা বড় দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো। এ রায় সন্তোষজনক।’
জুবায়ের হত্যার বিচারের দাবিতে গড়ে ওঠা ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ এর অন্যতম সংগঠক ও জাবি ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি তন্ময় ধর বলেন, ‘শিক্ষাঙ্গনে ক্ষমতায় থাকা ছাত্র সংগঠনের দলাদলির কারণে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকে। জুবায়ের হত্যার রায় ছাত্র হত্যার ইতিহাসে একটি বড় দৃষ্টান্ত। এ রায় দ্রুত কার্যকর হলে তা আরও বড় দৃষ্টান্ত হবে। যা ক্ষমতাকেন্দ্রিক ছাত্র রাজনীতিতে সহিংসতাকে নিরুৎসাহিত করবে।’
রায়কে স্বাগত জানিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগও। সংগঠনটির সভাপতি জুয়েল রানা বলেন, ‘ছাত্রলীগ শুরু থেকেই জুবায়ের হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচারের দাবি জানিয়ে আসছিল। উচ্চ আদালত যে রায় দিয়েছেন, তাতে আমরা সন্তুষ্ট। রায় যাতে দ্রুত কার্যকর করা হয় সে ব্যাপারে আমরা মামলার বাদী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলবো।’
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ। সংগঠনটির সভাপতি ইমরান নাদিম বলেন, ‘নিম্ন আদালতে যারা দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছিল তারা উচ্চ আদালতে নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছে। এ রায়ে আমরা হতাশ। আমরা চাই, মামলার বাদী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করুক।’
রায়কে স্বাগত জানিয়ে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট জাবি শাখার সভাপতি মাসুক হেলাল অনিক বলেন, ‘জুবায়ের হত্যার রায়ের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র হত্যার বিচারে একটি নজির তৈরি হলো। দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের খুঁজে বের করে রায় দ্রুত কার্যকর করতে হবে। অন্যথায় এ রায়ের কোনও মূল্য থাকবে না।’








