ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বলেছেন, ‘রাজধানীর ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ নাগরিকের অসুখী হওয়ার কারণ যানজট। বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে আমরা এই তথ্য জেনেছি। গৃহবিবাদেরও অন্যতম কারণ এই যানজট।’ বুধবার (৩১ জানুয়ারি) ডিএসসিসির ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে সিদ্বেশ্বরী উচ্চ বালক বিদ্যালয় মাঠে ‘জনতার মুখোমুখি জনপ্রতিনিধি’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
স্বাগত বক্তব্যে ডিএসসিসি মেয়র বলেন, ‘যানজট একদিনে কমিয়ে আনা সম্ভব নয়। তবে যানজট নিরসনে আমরা কাজ করছি। রাস্তা ভালো হয়ে গেলে যানজট কিছুটা কমবে আশা করি। আমি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার সময় ৯০ শতাংশ রাস্তা বেহাল ছিল। এখন ৮৫ শতাংশ রাস্তা চলাচলের উপযোগী।’
চলতি শুষ্ক মৌসুমে শতভাগ রাস্তা ভালো করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন মেয়র। ভাঙা রাস্তা মেরামতের জন্য একমাস সময় নিয়েছেন তিনি। সাঈদ খোকন বলেন, ‘রাস্তায় চায়ের দোকান দরকার আছে। তবে দোকানের কারণে আমাদের সন্তানদের হাঁটতে সমস্যা হচ্ছে। এগুলো উচ্ছেদ করা হবে। আগামীকাল (১ ফেব্রুয়ারি) থেকে ফুটপাতে রাস্তাদখল মুক্ত করবো। ফুটপাত পরিষ্কার অভিযান শুরু করবো।’
মেয়রের উদ্বোধনী বক্তৃতার পর তাকে ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন সমস্যার কথা জানান স্থানীয়রা। একদিকে সমস্যার কথা জানানো হচ্ছে, অন্যদিকে তিনি তা সমাধানে বিভিন্ন নির্দেশনা দিচ্ছেন।
সিটি করপোরেশনের সেবা বিষয়ের চেয়ে নগরবাসীর বেশি অভিযোগ ছিল মাদক ও ছিনতাই নিয়ে। তাদের অভিযোগ— যে হারে মাদক ও ছিনতাই বেড়েছে তাতে সড়কে বের হওয়াই দায়। এর মধ্যে মৌচাক মার্কেটের পেছনের সড়ক, মগবাজার ডাক্তার গলি, কমিশনার গলি, ১৬ নম্বর সিদ্বেশ্বরী লেন, ২১ নম্বর লেন নিয়ে অভিযোগ বেশি। নাগরিকদের এসব সমস্যার কথা শুনে বৃহস্পতিবার থেকে সমাধানের নির্দেশ দেন মেয়র।
প্রশ্নোত্তর পর্বে ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করতে সিসি ক্যামেরা বসানোর দাবি জানান সিদ্বেশ্বরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের এক শিক্ষার্থী। তার অভিযোগ, ‘মৌচাক থেকে মগবাজার ওয়্যারলেস এলাকায় ছিনতাই বেড়ে গেছে। প্রায়ই অস্ত্র ঠেকিয়ে ছিনতাই করা হচ্ছে। এজন্য ছাত্রলীগকে সবাই দোষারোপ করছে। কিন্তু এই কাজ শিবিরের কর্মীরা করছে।’
এর সমাধান হিসেবে শিগগিরই সিসি ক্যামেরা বসানোর জন্য অনুদানের আশ্বাস দেন মেয়র। একইসঙ্গে মাদক নিরাময়ের জন্য আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলার পাশাপাশি নাগরিকদের সহযোগিতা চেয়েছেন মেয়র। তিনি বলেছেন, ‘এই শহর শুধু মেয়রের নয়, আপনাদেরও। প্রতিটি ওয়ার্ডে ১০০টি করে মিনি ডাস্টবিন দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু চুরি হয়ে গেছে। নিজের ঘরের মতো শহর পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব আপনাদেরও আছে।’
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলার রায়ের পর কোনও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন ডিএসসিসি মেয়র। তার ভাষ্য, ‘এই শহরে জনগণের ভোটে মেয়র নির্বাচিত হয়েছি। সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও আমার দায়িত্ব। আপনারা জানেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা বিচারাধীন আছে। এটি করেছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনও সম্পর্ক নেই। এই রায় নিয়ে যদি কোনও অরাজকতা সৃষ্টি হয় তা প্রতিহত করা হবে। একজন নাগরিকও লাঞ্ছিত হলেও তা মেনে নেওয়া হবে না।’
সাঈদ খোকনের কথায়, ‘এই শহরে কোন ভবনের কোন ফ্ল্যাটে আওয়ামী লীগের কর্মীরা থাকেন আর কোন কোন ফ্ল্যাটে বিএনপি-জামায়াতের কর্মীরা থাকেন সবই আমরা জানি। সাবধান করে দিচ্ছি, বিশৃঙ্খলা করবেন না।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মুন্সী কামরুজ্জামান কাজল। এ সময় ছিলেন ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বেলাল, মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট প্রমুখ।








