প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যারা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে, সংবিধান লঙ্ঘন করে, তারা সবসময় আতঙ্কে থাকে। এই ক্ষমতাকে কীভাবে নিষ্কণ্টক করা যায়, তা নিয়েই তারা ব্যস্ত থাকে। বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকালে বাংলা একাডেমি চত্বরে ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’র উদ্বোধনের সময় দেওয়া ভাষণে তিনি এ মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে ভাষা আন্দোলন থেকে বাংলাদেশের জন্মের ইতিহাস ও এতে বঙ্গবন্ধুর অবদানের কথা স্মরণ করে দীর্ঘ বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে তিনি বলেন, ‘আমাদের দুর্ভাগ্য, আমাদের সবসময় একটা আঘাত আসে। মাত্র সাড়ে ৩ বছর জাতির পিতা হাতে ক্ষমতা পেয়েছিলেন। এরই মধ্যে তিনি একটি জাতিকে, একটি প্রদেশকে রাষ্ট্রে পরিণত করে, একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র কীভাবে পরিচালিত হবে, তার সবকিছু করেছিলেন। আজকে আমরা বাংলা একাডেমির এই বইমেলায় উপস্থিত হয়েছি, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন কিন্তু প্রথম তিনিই শুরু করেছিলেন। আমাদের মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা, আমরা যেন মাতৃভাষায় কথা বলতে পারি, তার সব ব্যবস্থা তিনি করে গিয়েছিলেন।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘কিন্তু এরপর আবার যখন মার্শাল ল সরকার ক্ষমতায় আসে, আর যা হোক, বাঙালি জাতির সংস্কৃতি, বাঙালি জাতির সাহিত্য চর্চা, বাঙালি জাতির বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো— এই কাজগুলোর দিকে তাদের তেমন কোনও মনোযোগ ছিল না। আর থাকতেও পারে না। কেন পারে না? খুব স্পষ্ট। যারা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে, সংবিধান লঙ্ঘন করে, তারা সবসময় আতঙ্ক থাকে। এই ক্ষমতাকে কীভাবে নিষ্কণ্টক করা যায়, তা নিয়েই তারা ব্যস্ত থাকে। তারা কিছু লোককে খুশি করে একটি এলিট শ্রেণি তৈরি করে, যাদের মাধ্যমে তারা ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করতে চায়। কিন্তু সার্বিকভাবে একটি দেশের উন্নতি কীভাবে হবে, তার ভাষা, তার সংস্কৃতি চর্চা কীভাবে হবে, একটি দেশের জনগণ কীভাবে আর্থসামাজিক দিক থেকে এগিয়ে যাবে, সেসব দিকে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয় না।’
অনুষ্ঠানে এ বছরের বাংলা একাডেমি পুরস্কার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার ও সনদ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। এছাড়াও জিম্বাবুয়ে, মিশরসহ কয়েকটি দেশের বেশ কয়েকজন লেখক-সাহিত্যিকও বক্তব্য রাখেন।








