যুক্তরাষ্ট্র ওষুধ প্রশাসন (ইউএসএফডিএ) অনুমোদিত ওষুধ ‘প্রিয়াল্ট্র’ ব্যবহার হয় নার্ভ সিস্টেমের তীব্র ব্যথা কমাতে। স্পেনের একটি ওষুধ প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত ‘ইউনডেলিস’-এর ব্যবহার হয়ে থাকে মানবদেহের কোমল টিস্যু চিকিৎসায়। এছাড়া পৃথিবীর অনেক দেশে তৈরি হয়ে থাকে অ্যান্টি এজিং ক্রিম বা বয়স-নিরোধক ক্রিম।
এমন আরও হাজার পণ্যের মধ্যে একটি বিষয়ে মিল রয়েছে। প্রতিটিই লাখ লাখ ডলারের ব্যবসা করে ও এগুলো তৈরি হয় সমুদ্র সম্পদ থেকে। যেমন— সমুদ্রে এক ধরনের শামুক পাওয়া যায়, যা থেকে তৈরি হয় ‘প্রিয়াল্ট্র’। আবার সমুদ্র তলদেশে পাওয়া এক ধরনের জলজ উদ্ভিদের নির্যাস থেকে তৈরি হয় ‘ইউনডেলিস’। অ্যান্টি এজিং ক্রিম তৈরির জন্যও ব্যবহৃত হয় সমুদ্র তলদেশে বিচরণ করে এমন এক ধরনের প্রাণী। বাংলাদেশে এ ধরনের সমুদ্র সম্পদের প্রাচুর্য আছে, যা প্রক্রিয়াজাত করে আয় করা যেতে পারে কোটি কোটি ডলার।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের সচিব মোহাম্মাদ খোরশেদ আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বেলজিয়ামের মোট উপকূলীয় অঞ্চল মাত্র ৭০ কিলোমিটার। অন্যদিকে বাংলাদেশে তা ৭০০ কিলোমিটারের বেশি। ওই অল্প উপকূল ব্যবহার করেই সমুদ্র সম্পদ প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে বেলজিয়াম যে পরিমাণ অর্থ আয় করে, আমাদের কাছে তা মনে হবে অবিশ্বাস্য!’
মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের সচিব জানান, ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্র সীমানা সংক্রান্ত বিরোধের মীমাংসা হয়েছে। এজন্য বঙ্গোপসাগরের মধ্যে নিজ ভূখণ্ডের প্রায় সমপরিমাণ একটি অঞ্চলের ওপর সার্বভৌম অধিকার পেয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু এখান থেকে সারাবছর অল্প কিছু মাছ ধরা ছাড়া তেমন কোনও সম্পদ আহরণ করা হয় না। তিনি বলেন, ব্লু বায়োটেক একটি অত্যন্ত লাভজনক নতুন ক্ষেত্র। আমাদের দেশে এর প্রসার ঘটলে তৈরি পোশাক শিল্পের মতো এই খাত থেকেও প্রচুর অর্থ আয় করা সম্ভব।’
ব্লু বায়োটেক একটি উচ্চপ্রযুক্তি ক্ষেত্র। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সচিব মোহাম্মাদ খোরশেদ আলম জানান, প্রযুক্তিটি কেনা যায়। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘আইসল্যান্ডে ম্যাটিস নামে একটি প্রতিষ্ঠান আছে যারা স্কিন কেয়ার পণ্যের প্রযুক্তি বিক্রি করেছে আরেকটি আইরিশ প্রতিষ্ঠানের কাছে। এখান থেকে রয়্যালটি পায় তারা।’
সচিব মনে করেন, ওই প্রতিষ্ঠান ব্যবসা করতে পারলে বাংলাদেশেও এটি সম্ভব। তার কথায়, ‘আমরা বিভিন্ন চেম্বার ও ব্যবসায়িক অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে বৈঠকে বসে ব্লু বায়োটেক ক্ষেত্রে বিনিয়োগের জন্য উৎসাহিত করছি। এই খাতে সরকার কোনও ধরনের ব্যবসা করবে না; বরং তারা বেসরকারি খাতকে এ বিষয়ে বিনিয়োগে উদ্বুদ্ধ করছে।’
ব্লু বায়োটেকে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ পাওয়া গেলে তৈরি পোশাক শিল্পের পাশাপাশি সমুদ্র অর্থনীতিও বাংলাদেশ একটি বিশাল আয়ের উৎস হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।







