দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে বিনিয়োগকারীদের সব ধরনের সেবা একছাতার নিচে আনতে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস বিল-২০১৮’ সংসদে পাস হয়েছে।
সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সংসদের বৈঠকে বিলটি পাসের প্রস্তাব করেন সংসদের কাজে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী।
এর আগে বিকাল সাড়ে চারটায় ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়। বিলটির ওপর বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যের দেওয়া একাধিক সংশোধনী জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নিষ্পত্তি করা হয়।
বিলটি আইনে পরিণত হলে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ ‘কেন্দ্রীয় ওয়ান স্টপ সার্ভিস কর্তৃপক্ষ’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।
বিলটির ওপর জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব দিয়ে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘‘নামটি ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ এর বদলে ‘ওয়ান স্টপ ঘুষ‘ রাখতে ভালো হতো। ২৭টি স্থানে ঘুষ দিতে হবে। ঘুষের মহোৎসব চালু হবে।’’ তিনি এই বিলটি পাসের বিরোধিতা করে বলেন, ‘বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে সরকারি অফিসগুলোতে প্রতিনিয়ত ঘুষ লেনদেন হচ্ছে।’ একই ঘটনা এখানেও ঘটার আশঙ্কা করেন তিনি।
বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের অন্যান্য বক্তব্যের জবাব দিলেও মন্ত্রী এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনও কথা বলেননি।
গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর সংসদের বৈঠকে বিলটি উত্থাপন করার পরে তা আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়। এর আগে গত বছরের ৮ মে মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিলটির খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদন পায়।
পাস হওয়া বিলে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। একইসঙ্গে জনগণের জীবনমান দ্রুত উন্নয়নের স্বার্থে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নকল্পে বিনিয়োগকারীদের প্রস্তাবিত কোনও প্রকল্প বা উদ্যোগের জন্য প্রয়োজনীয় যে কোনও সুবিধা, প্রণোদনা, লাইসেন্স, অনুমতি, ছাড়পত্র বা অনুমোদন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
বিলে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ নিশ্চিত করতে সরকারের একজন মন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে। সরকার প্রজ্ঞাপনে উল্লিখিত সংখ্যক সদস্যের সমন্বয়ে ওয়ান স্টপ সার্ভিস নিশ্চিতকরণ কমিটি নামে একটি কমিটি গঠন করতে পারবে। কমিটির কার্যপরিধিও প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
পাস হওয়া বিলে বলা হয়েছে, কোনও ব্যক্তি এই আইনের অধীনে অর্পিত দায়িত্ব পালনে অবহেলা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনও আবেদন নিষ্পত্তি করতে না পারলে, তা অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে।
এতে বলা হয়, ট্রেড লাইসেন্স, জমি নিবন্ধন, নামজারি, পরিবেশ ছাড়পত্র, নির্মাণ অনুমোদন, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সংযোগ, টেলিফোন-ইন্টারনেট সংযোগ, বিস্ফোরক লাইসেন্স, বয়লার সার্টিফিকেটসহ ২৭টি ক্যাটাগরিতে এসব সেবা দেওয়া হবে। এক জায়গায় বসেই যাতে এসব অনুমোদন পাওয়া যায়, সে সুযোগ রাখা হয়েছে পাস হওয়া এই বিলে।
ফলে কোনও বিনিয়োগকারীকে প্রাথমিক অনুমোদন ও অন্যান্য অনুষ্ঠানিকতার জন্য আর বিভিন্ন অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না। যেকোনও জায়গায় বসে অনলাইনেই স্বল্পতম সময়ে সেবা পাওয়া যাবে এবং নতুন ব্যবসা শুরুর জটিলতা অনেকাংশে লাঘব হবে। বিনিয়োগকারীদের কোন সেবা কত দিনের মধ্যে দিতে হবে, তা বিধি দিয়ে নির্ধারণ করা হবে।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ ওয়ান স্টপ সার্ভিস দিয়ে আসছে। কিন্তু এই ব্যবস্থা আরও কার্যকর করে তোলা একান্ত প্রয়োজন। এলক্ষ্যে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও জোন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ওয়ান স্টপ সার্ভিস প্রদানের পদ্ধতিকে বিধিবদ্ধ করা, এ আইনকে প্রচলিত অপরাপর সংশ্লিষ্ট আইনের ওপর প্রাধান্য দেওয়া, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেবা দিতে ব্যর্থতার ক্ষেত্রে ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে যথা সময়ে সেবা প্রদান নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ’








