কলকাতা থেকে সাইকেল চালিয়ে বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ করতে করতে ঢাকায় পৌঁছেছে সৌরজিৎ রায়ের দল। প্রায় ৪৫০ কিলোমিটিার পথ পাড়ি দিয়ে তারা এসেছেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টায় ২০জনের এই দল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।
ভারতের একটি ট্যুর সংস্থা ১০০ মাইলসের উদ্যোগে তাদের এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আসার ঘটনা প্রায় ৬ বছর পুরনো। ২০১২ সাল থেকে তারা নিয়মিত বাংলাদেশে আসছেন এবং শহীদদের শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি ঘুরে দেখছেন বাংলাদেশের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলো। ১৪ ফেব্রুয়ারি কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুর বাড়ি থেকে শুরু হয় ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী বন্ধন সাইকেল র্যালি, ভাষা সূত্র ২০১৮।
জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ি থেকে এই যাত্রার উদ্বোধন করেন বেঙ্গল অলিম্পিকস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়, জোড়াসাঁকো বিধানসভার সদস্য স্মিতা বক্সি, বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী শ্রী ধ্রুব বসু রায়, শুভেন্দু মাইতি, তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের সহ-সভাপতি অধ্যাপকা ড. সন্ধ্যা ভাদুড়ি, বিশিষ্ট কবি শ্রী ঋজুরেখ চক্রবর্তী।
দলনেতা সৌরজিৎ জানান, ২০১২ সাল থেকে প্রতি বছর এ উদ্যোগ গ্রহণ করে আসছেন। প্রথমে একান্ত ব্যক্তিগত উদ্যোগে কয়েকজন বন্ধুর উৎসাহে নিছকই অ্যাডভেঞ্চারের জন্য অভিযানটি শুরু করা হয়েছিল। কিন্তু ক্রমে ক্রমে তা বিস্তৃত হয়ে পড়েছে। প্রথম বছরে অভিযানে সঙ্গী ছিল ৭ জন সদস্য। ধীরে ধীরে তা বেড়ে এই বছর হয়ে দাঁড়িয়েছে ২০ জন। এই উৎসাহে শামিল হয়েছেন ৬৭ বছরের আরোহীও। গতবার ছিল ১২ বছরের দীপ। খুব সম্ভবত এই রকম ক্রস-কান্ট্রি সাইকেল র্যালিতে সবচেয়ে কমবয়েসী ব্যক্তি। এই বছর অবশ্য আরও ক্ষুদে এক সদস্য শামিল হয়েছে। শ্রীযুক্ত আয়ুস। বয়স মাত্র ৭। মায়ের সঙ্গে সেও এবার সাইকেল আরোহী।
কলকাতা থেকে শুরু করে গেদে সীমান্ত পেরিয়ে দর্শনা, মেহেরপুরের মুজিবনগর, চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে কুষ্টিয়ার লালন শাহের মাজার, রবীন্দ্রনাথের শিলাইদহ কুঠিবাড়ি, পাবনায় সুচিত্রা সেনের বাড়ি ভ্রমণ শেষে সাভার স্মৃতিসৌধ হয়ে প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে মঙ্গলবার সকালে ঢাকায় পৌঁছে তারা।
ঢাকায় পৌঁছে সন্ধ্যায় সৌরজিৎ জানান, দুইটি দেশের যে ভাষার টান, তাকেই সম্বল করে বারবার আসছেন। বাংলাদেশের সঙ্গে ভাতৃত্ববোধ আরও প্রসার করার লক্ষ্যেই এই দেশে আসা। ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সমাপ্ত হবে তাদের এই যাত্রা।
‘বাংলা কখনও হয়না ভাগ, বাংলা ভাষায় আমরা এক’– এই স্লোগানকে বুকে ধারণ করেই আমাদের এই যাত্রা উল্লেখ করে সৌরজিৎ বলেন, ‘আমরা জন্মের পর থেকে তিনটি জিনিস বয়ে বেড়াই। এক নাগরিকত্ব, দুই আমাদের ধর্ম আর আমাদের জাতিসত্তা। এই তিনটি জিনিসের একটা কিন্তু চাইলেই আমরা বদলিয়ে ফেলতে পারি। সেটা হলো জাতিসত্তা।’
সৌরজিৎ বলেন, ‘আমরা আমাদের পরবর্তী বছরের র্যালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বোসের নামে উৎসর্গ করবো।’








