‘যদি বর্ষে ফাল্গুনে, চিনা কাউন দ্বিগুণে’। ফাল্গুন মাসে বৃষ্টি হলে চিনা ও কাউনের ফলন দ্বিগুণ হয়। অর্থাৎ খনার এ বচনের মর্মার্থ হলো, এ বৃষ্টিতে কৃষকের লাভ, কৃষির লাভ। এবারের ফাল্গুনের শুরুতে দেখা দিয়েছে তেমন ‘মাঙ্গলিক’ বৃষ্টি।
তবে হুট করে আসা বৃষ্টিতে গত রাতে (২৫ ফেব্রুয়ারি) একুশে বইমেলার বই ভিজে গেছে। এতে ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে আর লেখক-পাঠকদের মন হয়েছে বিষণ্ন। তেমনই মেলা শেষ হওয়ার দুদিন আগের সন্ধ্যার বৃষ্টি মেলাপ্রাঙ্গণের উত্তাপে জল ঢেলে দিয়েছে।
রবিবার মধ্যরাতের হঠাৎ বৃষ্টিতে ঘুম ভেঙে যায় নগরবাসীর। নাগরিক জীবনের প্রথম বর্ষণ বেশ উপভোগ্য হয়, বৃষ্টির রিমঝিম শব্দে মুখর হয় নগর। বৃষ্টিতে ধুলোবালি কমে যাওয়ায় নাগরিক মনে কিছুটা হলেও স্বস্তি দেখা দিয়েছে। আজ সোমবার সারাদিনই গরমের মাত্রা কম ছিল। হঠাৎ এ বৃষ্টি জনমনে স্বস্তি এনে দিয়েছে। তবে ঘরমুখো মানুষ পড়ে ভোগান্তিতে। প্রস্তুতি না থাকায় অনেককেই ভিজতে ভিজতে হাঁটতে দেখা গেছে রাস্তায়।
আবহাওয়া অধিদফতরের ফেব্রুয়ারি মাসের পূর্বাভাসে এ মাসের দ্বিতীয়ার্ধে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছিল। হাফিজুর রহমান বলেন, ‘এ বৃষ্টি স্বাভাবিক, অস্বাভাবিক কিছু না। পূর্বাভাসে একটা কালবৈশাখীর কথা বলা ছিল। সেটারই বাস্তবায়ন দেখলাম।’
তিনি জানান, গত রাতে বেশি বৃষ্টি হয়েছে কয়েকটি জেলায়— টাঙ্গাইলে ৩০ মিমি, বগুড়াতে ১৬ মিমি, সিরাজগঞ্জে ১৭ ও কিশোরগঞ্জে ১৯ মিমি রেকর্ড করা হয়েছে। আজ সন্ধ্যায় যেটা হচ্ছে সেটা এখনও পরিমাপ করা হয়নি।
হাফিজুর রহমান বলেন, ‘এই বৃষ্টি দীর্ঘস্থায়ী হবে না। কালবৈশাখী একাধিকবার আসে মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে, গতকালেরটিও সেরকমেরই ছিল।’








