এ বছরের মতো পর্দা নামলো অমর একুশে গ্রন্থমেলার। বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ছিল মেলার শেষদিন। প্রতিদিনের মতো এদিনও বিকাল ৩টা থেকে মেলা চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। সন্ধ্যা ৬টায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান বলেন, ‘এবার সার্বিক অর্থেই সর্বাঙ্গ সুন্দর একটি মেলা হয়েছে। এর মাধ্যমে আমাদের সাংস্কৃতিক জাগরণ যে বেগবান হচ্ছে, তা নিঃসন্দেহে বলা যায়।’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। তিনি বলেন, ‘বইমেলা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্প্রসারণের সিদ্ধান্তটি যে সঠিক ছিল, তা এবারের মেলাতেও প্রমাণিত হয়েছে। এ বছরের ভুলত্রুটিগুলো হয়তো আগামী মেলায় কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।’
সভাপতির বক্তব্যে বাংলা একাডেমির সভাপতি ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের দেশে উচ্চশিক্ষা স্তরে বাংলায় পাঠ্যপুস্তক কম প্রকাশিত হয়। এ ধরনের বই আরও প্রকাশিত হওয়া জরুরি।’
এবারের মেলায় শিশু ও অভিভাবকসহ ক্রেতা-দর্শনার্থীর আগমন ছিল বিশেষভাবে লক্ষণীয়। এক প্রতিবেদন উপস্থাপন করে বইমেলা আয়োজন কমিটির সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদ বলেন, ‘গতকাল ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্টল মালিকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য এবং আজকের সম্ভাব্য বিক্রি যুক্ত করলে বলা যায়, এবার বইমেলায় ৭০ কোটি ৫০ লাখ টাকার বই বিক্রি হয়েছে। এছাড়া, গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত বাংলা একাডেমি এক কোটি ৫১ লাখ ২৪ হাজার টাকার বই বিক্রি করেছে। শেষদিনেও বইমেলায় নতুন বই এসেছে ২৫৫টি। মেলায় নতুন বই এসেছে চার হাজার ৫৯১টি।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মো. ইব্রাহীম হোসেন খান বলেন, ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা পৃথিবীর অন্যতম বইমেলা। প্রযুক্তির এই যুগে পাঠক যে বই থেকে মুখ ফিরিয়ে নেননি, এটা অত্যন্ত আশাব্যাঞ্জক।’
এর আগে বিকাল ৪টায় মেলার মূল মঞ্চে ছিল বাংলাদেশের নৃগোষ্ঠী শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। সেখানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাহমান নাসির উদ্দিন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী এবং রণজিত সিংহ। সভাপতিত্ব করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক রাশিদ আসকারী।
এসময় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের নৃগোষ্ঠীরা সাংস্কৃতিকভাবে যে সমৃদ্ধ ঐতিহ্য বহন করেন, তা আমাদের মূল ধারার সংস্কৃতিরই অংশ। তাদের জীবনযাত্রার বৈচিত্র্য আমাদের রাষ্ট্র, সমাজ ও সংস্কৃতিকে ঋদ্ধ করে। রাষ্ট্রের কর্তব্য তাদের ভাষা-সংস্কৃতির অধিকার সুরক্ষা এবং সার্বিক বিকাশের ব্যবস্থা করা।
সভাপতির বক্তব্যে রাশিদ আসকারী বলেন, ‘নৃগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নতকরণ যেমন জরুরি, তেমনি তাদের আদি ভাষা-সংস্কৃতি ইত্যাদি সুরক্ষার নিশ্চয়তা বিধানও আমাদের দায়িত্ব।’
গুণীজন স্মৃতি পুরস্কার ঘোষণা
অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০১৮ উপলক্ষে বাংলা একাডেমি চারটি গুণীজন স্মৃতি পুরস্কার ঘোষণা করে।
২০১৭ সালে প্রকাশিত বিষয় ও মানসম্পন্ন সর্বাধিক সংখ্যক বই প্রকাশের জন্য প্রথমা প্রকাশনকে চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার-২০১৮; ২০১৭ সালে প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে গুণমান ও শৈল্পিক বিচারে সেরা গ্রন্থের জন্য অলকানন্দা প্যাটেলের ‘পৃথিবীর পথে হেঁটে’ গ্রন্থের জন্য বেঙ্গল পাবলিকেশন্স, সুফি মুস্তাফিজুর রহমানের ‘বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক উত্তরাধিকার’ গ্রন্থের জন্য জার্নিম্যান বুকস, মঈন আহমেদ সম্পাদিত ‘মিনি বিশ্বকোষ পাখি’ গ্রন্থের জন্য সময় প্রকাশনকে মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার-২০১৮; ২০১৭ সালে প্রকাশিত শিশুতোষ গ্রন্থের মধ্য থেকে গুণমান বিচারে সর্বাধিক গ্রন্থ প্রকাশের জন্য চন্দ্রাবতী একাডেমিকে রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার-২০১৮ দেওয়া হয়।
এছাড়া, এ বছরের গ্রন্থমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্য থেকে নান্দনিক অঙ্গসজ্জায় সেরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে কথাপ্রকাশকে শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার-২০১৮ দেওয়া হয়। পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রকাশকদের ২৫ হাজার টাকার চেক, সনদ ও ক্রেস্ট দেওয়া হয়।








