ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালকে অসম্ভব সৌভাগ্যবান উল্লেখ করে তার স্ত্রী অধ্যাপক ইয়াসমিন হক বলেছেন, সবার দোয়া আছে বলেই তিনি বেঁচে গেছেন। তিনি বলেন, ‘জাফর ইকবাল অসম্ভব সৌভাগ্যবান। সবার দোয়া আছে বলেই তিনি বেঁচে গেছেন। ভাবুন, যারা বাঁচেনি, তাদের কী অবস্থা। এমন ঘটনা ঘটেছে, ঘটা উচিত ছিল না।’ সোমবার (৫ মার্চ) বিকালে রাজধানীর শাহবাগে এক প্রতিবাদ সমাবেশে এসব কথা বলেন ইয়াসমিন হক।
তিনি বলেন, ‘মুহম্মদ জাফর ইকবাল দুইশ বই লিখেছেন; তার একটিতেও ইসলামবিরোধী কোনও কথা নেই। যদি ওই ছেলেটি জাফর ইকবালের একটি বইও পড়তো, তাহলে সে এমন কাজ করতো না।’ তিনি আরও বলেন, ‘ওই ছেলেকে ভুল বুঝানো হয়েছে। এখনও ওই পর্যায়ের শিক্ষার্থী আছে–যারা হতাশাগ্রস্ত, যাদের ভুল বুঝাতে পারে, অনেকেই আছে। তাদের পড়তে হবে, বুঝতে হবে। মনে রাখতে হবে আমাদের দেশ স্বাধীন হয়েছে, আমরা সবাই বাঙালি ছিলাম, কোনও ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক বিষয় ছিল না। আমাদের সেক্যুলার দেশ। এতবছর বাচ্চাদের তাহলে আমরা কী শিখিয়ে আসছি।’
জাফর ইকবাল কেমন আছেন বলতে গিয়ে ইয়াসমিন হক বলেন, ‘চিকিৎসকরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন। আমার বাবা আর্মির ডাক্তার ছিলেন। সিএমএইচে ড. ইকবালকে কাল সকালে প্রথম পাঁচ মিনিটের জন্য দেখা করতে দিয়েছিলেন। যেদিনে এখানে নিয়ে আসা হলো, প্রথমে আইসিইউতে ঢুকিয়ে সিটি স্ক্যান করা হয়েছে। পরে গভীর রাতে আমরা সবাই বাসায় চলে গেলাম। আমি বারবার আত্মীয়দের নিষেধ করেছি সেখানে যেতে। আমাদের জানানো হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন ২৪ ঘণ্টা কেউ ঢুকবে না। আমি চিকিৎসকের মেয়ে। আমি জানি। জাফর ইকবাল সুস্থ এবং তার জ্ঞান ছিল; তাই আমিও যাইনি। হাসপাতালে যারা দেখতে গেছেন, তারা যদি দেখেন আমিই ঢুকছি না, তাহলে কেউই ঢুকতে চাইবেন না। আমি যখন গতকাল সকালে ৫ মিনিটের জন্য ঢুকেছিলাম তখন জাফর ইকবাল জানতে চেয়েছিলেন, তিনি এখানে কেন? এই সিদ্ধান্ত কে নিয়েছে। আমি তাকে জানাই, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি নিজে ব্যক্তিগতভাবে খোঁজ নিয়েছেন। উনি এত ব্যস্ততার মধ্যেও খবর নিয়েছেন।’
অধ্যাপক ইয়াসমিন হক শাহবাগে উপস্থিত জনতাকে জানান, ‘সবাই অসম্ভব সহযোগিতা করেছে। আগামী ছয় দিন সম্ভবত সিএমএইচেই জাফর ইকবালকে রাখা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি চিকিৎসকদের বলেছি, যতদিন রাখার দরকার রাখেন, ওর রেস্ট হবে। যাতে তাড়াতাড়ি ভালো হয়। ক্যাম্পাসে ফিরে গেলেই সে খুশি হবে। জাফর ইকবাল সবসময় পুলিশকে বলতেন, ছাত্রদের কাছে আসতে দাও। হয়তো এরপর তিনি সতর্ক হবেন। আমরা ক্যাম্পাসে থাকি, যার যেটা কাজ, করে যাবো।’ তিনি বলেন, ‘পুরো দেশের বাচ্চাদের ভালবাসা কীভাবে ফেরত দেবো, জানি না।’
গত দুদিন বাইরে কী ঘটেছে, সে সম্পর্কে জাফর ইকবালের কোনও ধারণাই নেই উল্লেখ করে ইয়াসমিন হক বলেন, ‘তিনি কিন্তু কিছুই জানেন না, কী ঘটছে বাইরে। প্রধানমন্ত্রীর কাছেই আজ যেটুকু শুনেছেন। আপনারা সবাই জানতেন (জাফর ইকবালের প্রতি) হুমকি আছে। সাস্ট এর শিক্ষার্থী ও ছোট বাচ্চা সারাদেশে যারা আছে, তোমরা তো জানো বিষয়টা। জাফর ইকবাল অসম্ভব সৌভাগ্যবান। সবার দোয়া আছে বলেই তিনি বেঁচে গেছেন। ভাবুন, যারা বাঁচেনি, তাদের কী অবস্থা। এমন ঘটনা ঘটেছে, ঘটা উচিত ছিল না।’
সরকারের কাছে কিছু চাওয়ার নেই উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘যা করার তার চেয়ে বেশি করেছে, এখনও করছে। পরিবার আর কী চাইবে?’








