মুক্তিযোদ্ধা ও প্রখ্যাত ভাস্কর ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীকে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। শহীদ মিনারে সর্বস্তরের শ্রদ্ধা জানাতে সকাল ১০টা থেকেই জড়ো হতে থাকে মানুষ। সকাল ১১টায় ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর মরদেহ শহীদ মিনারে এসে পৌঁছায়। ১১টা ১০ মিনিটে গার্ড অব অনার দেওয়ার পর শ্রদ্ধা জানানো শুরু হয়। শ্রদ্ধা জানাতে আসেন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা, সমাজকর্মী, নারী নেতা, সংস্কৃতিকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
বৃহস্পতিবার (৮ মার্চ) শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানানো শেষে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ‘তার সব স্বপ্নই বাস্তবায়ন করবে সরকার। ইতোমধ্যে অনেক কাজ সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় করেছে। বিশেষ করে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় তার জন্য কাজ করেছে বেশি। তার জন্য এখনও কাজ করে যাচ্ছে। স্বাধীন বাংলাদেশে তার যে অসামান্য অবদান, তা জাতির জন্য যথেষ্ট।’
শিরীন শারমিন আরও বলেন, ‘নারী আন্দোলনে তিনি অসামান্য ভূমিকা রেখেছিলেন। নান্দনিক শিল্পচর্চায় তিনি অবদান রেখেছেন। স্মৃতিতে সব সময় স্মরণীয় হয়ে থাকবেন এই নারী।’
নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার বলেন, ‘ফেরদোসী প্রিয়ভাষিণী মুক্তিযুদ্ধের একজন সাহসী নারী। তিনি নির্যাতিত মুক্তিযোদ্ধা নারীদের পুনর্বাসন করেছেন। তিনি একজন ভাস্কর। আমাদের কাছে প্রিয়ভাষিণীর সামাজিক গুরুত্ব অনেক বেশি।’
প্রিয়ভাষিণীর মরদেহ আসার আগেই শহীদ মিনারে আসেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘মৃত গাছের গোড়া থেকে ভাস্কর্য তৈরি করে প্রিয়ভাষিণী এ শিল্পে নতুনত্ব এনেছেন। তিনি নিজে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন এবং আমৃত্যু মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে গেছেন। এটা তরুণ প্রজন্মের কাছে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তার মৃত্যুতে জাতির অপূরণীয় ক্ষতি হলো।’
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘সাহস থাকলে সব বাধা পেরিয়ে জয় করা যায়, তার উদাহরণ ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী। নারীর সমস্যা, অধিকারের বিষয়ে সব সময় সোচ্চার ছিলেন এই নারী। তার ওপর বারবার আঘাত এলেও ঘুরে দাঁড়িয়েছেন তিনি।’
প্রিয়ভাষিণীর পরিবারের পক্ষ থেকে তার মেয়ে ফুলেশ্বরী বলেন, ‘সারাজীবন তিনি সংগ্রাম করেছেন। তার একটি শেষ ঠিকানা দরকার ছিল। শহীদ জননী জাহানারা ইমামের পাশে শেষ ঠিকানা পাওয়ায়, গর্ব হচ্ছে।’
লেখক-প্রাবন্ধিক ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক বলেন, ‘ প্রিয়ভাষিণী, কতভাবে কাজ করেছেন তা বলে শেষ করা যাবে না।’
জাসদ (ইনু) নেতা শিরিন আকতার বলেন, ‘প্রিয়ভাষিণীকে এই শ্রদ্ধা জানানোতে নারী দিবসের অধিকার প্রতিফলিত হয়েছে।’
এছাড়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদিক, আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান, প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, সংস্কৃতি সচিব মো. ইব্রাহীম হোসেন খান, সঙ্গীত শিল্পী ফকির আলমগীরসহ সমাজের বিশিষ্টজন ও সাধারণ মানুষ।
শহীদ মিনার থেকে দুপুর সাড়ে ১২টায় তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়।
শ্রদ্ধা জানাতে আসা বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও সংগঠনের মধ্যে রয়েছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, জাসদ, ছাত্রলীগ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, সম্মিলিত গণমুক্তি ফাউন্ডেশন, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন, প্রশিকা, হাতে খড়ি, ঢাকা বিভাগীয় নজরুল সেনা, সাম্যবাদী দল (মার্কসবাদী), নৌপুলিশ।
আরও পড়ুন:
গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীকে








